
মোঃ মাসুদ রানা,
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ছোট কামারকুন্ডু গ্রামের ব্যবসায়ী খন্দকার সুলতান আহমেদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি চঞ্চল বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। দীর্ঘ ১৩ বছর নাম পরিবর্তন করে আত্মগোপনে থাকার পর বুধবার রাতে ঢাকার আশুলিয়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার চঞ্চল বিশ্বাস ঝিনাইদহ শহরের ভুটিয়ারগাতী এলাকার জহর বিশ্বাসের ছেলে।
ঝিনাইদহ সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) আখতার হোসেন মিনা জানান, নিহত ব্যবসায়ী সুলতান আহমেদের পুলিশ লাইন্সের সামনে একটি গ্রিলের দোকান ছিল। পাশাপাশি তিনি ঠিকাদারি ব্যবসাও করতেন। চুয়াডাঙ্গায় একটি ঠিকাদারি কাজের টাকা সুলতানের কাছে পাওনা ছিল চঞ্চলের। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
এরই জের ধরে ২০১৩ সালের ২৯ জুন সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে সুলতানকে ডেকে নেন চঞ্চল। পরদিন ৩০ জুন সকালে উদয়পুর গ্রামের মাঠ থেকে তার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ইয়াসমিন সুলতানা বাদী হয়ে চঞ্চলকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর থেকেই পলাতক ছিলেন চঞ্চল বিশ্বাস।
তদন্ত শেষে চঞ্চল বিশ্বাস ও জাহাঙ্গীর আলম নামে দুজনকে অভিযুক্ত করে ২০১৫ সালের ১৭ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। পরে আসামিরা মামলার বিচার ও তদন্ত কার্যক্রম বন্ধের আবেদন জানিয়ে উচ্চ আদালতে গেলে মামলাটির কার্যক্রম স্থগিত হয়।
গত মাসে ওই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হওয়ার পর আদালত মামলাটির তদন্তভার সিআইডিকে দেন।
পুলিশ পরিদর্শক আখতার হোসেন মিনা বলেন, মামলার তদন্তভার পাওয়ার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চঞ্চল বিশ্বাসের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি নিজের নাম পরিবর্তন করে ‘সুজা বিশ্বাস’ পরিচয়ে আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকার আলম মার্কেটে ব্যবসা করে আসছিলেন।
তিনি আরও জানান, মামলার অভিযোগপত্রে থাকা অপর আসামি জাহাঙ্গীর আলম ২০২২ সালে মারা গেছেন। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত চলছে। তদন্তে নতুন কেউ অভিযুক্ত হলে তাদের বিরুদ্ধেও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
গ্রেপ্তার চঞ্চল বিশ্বাসকে ঝিনাইদহ সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।