
মোঃ মাসুদ বিপ্লব ঠাকুরগাঁও থেকে:
ঠাকুরগাঁও জেলা সারা দেশের মতোই অপরিকল্পিত নগরায়নের চাপে নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন। পরিকল্পনাহীন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফলে জেলার পরিবেশ, সংস্কৃতি এবং জনজীবনে নানা নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।পর্যাপ্ত রাস্তা এবং যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল যানজটের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এর ফলে শহরের বিভিন্ন এলাকা বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে উঠছে।জেলার জলাধার ও খালখন্দরের ভূমি দখল হয়ে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে।শহরের বিভিন্ন এলাকায় আগুন লাগলে পানি সংগ্রহের জন্য নির্দিষ্ট কোনো উৎস নেই, যা বিপদজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে।জেলার তরুণ প্রজন্মের জন্য খেলার মাঠ এবং সাংস্কৃতিক চর্চার স্থান ক্রমশ সংকুচিত হয়ে পড়ছে। এর ফলে সৃষ্টিশীল মানুষ তৈরির পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।জেলার খাস জমি লিজ নিয়ে সেখানে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। এতে জনকল্যাণমূলক ব্যবস্থার জন্য জমি কমে আসছে।পরিকল্পনার অভাবে দেখা দেয়া সমস্যা সমাধানের উপায় নিয়ে ভাবনা কারো নেই। প্রশাসনের দায়সারা মনোভাব বহিঃপ্রকাশ ও দেশ প্রেমের ঘাটতির অভাবে এর আরেকটি অভিযোগ সচেতন মানুষের।ব্যাক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে সুবিধাভোগীদের দখলদারিত্ব আরো একটি কারণ হিসেবে দেখা যায়।স্থানীয় জনসচেতনতার অভাবে এই সমস্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এই সমস্যাগুলো ঠাকুরগাঁওয়ের পরিবেশগত এবং সামাজিক কাঠামোকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তরুণ প্রজন্ম শারীরিক এবং মানসিক বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নগর পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন,দখলকৃত খাল ও খাস জমি পুনরুদ্ধার,ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন,আগুন নির্বাপনে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ,খেলার মাঠ ও সাংস্কৃতিক চর্চার স্থান বৃদ্ধি, প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাসহ অন্যান্য সমস্যা চিহ্নিত করে তার উপায় বের করে সমাধান করতে হবে দাবি অভিজ্ঞ মহলের।
ঠাকুরগাঁওয়ে অপরিকল্পিত নগরায়নের সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক দল,সাধারণ জনগণ এবং সংশ্লিষ্ট মহলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। জনকল্যাণের স্বার্থে সবার ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগই একমাত্র পথ ভাবনা সুধী মহলের।