বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ভাঙ্গুড়ায় বিএনপির কাউন্সিল নির্বাচন ঘিরে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ | ১,২৬৮ লিটার দুধ নষ্ট, ড্রাম কাটার দাবি নবম জাতীয় বেতন স্কেল অনুমোদন: নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মচারীদের আনন্দ র‍্যালি ঠাকুরগাঁও-১: নম্র চৌধুরীকে ঘিরে রয়েছে মনোনয়নের জোর গুঞ্জন গোপালগঞ্জে ক্রেডিট ইউনিয়নের কোটি টাকা নিয়ে কর্মচারী উধাও পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি বসানো নিয়ে বিরোধ রাজবাড়ীতে বাড়ীর প্রবেশপথে বাঁশের বেড়া হাটুপানি দিয়ে ৪টি পরিবারের চলাচল সাপাহারে পূজা উদযাপন ফ্রন্টের পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহী মোহনপুরে বিধবা নারীকে মারধরের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো: হাবীবুল্লাহ পেলেন সম্মানজনক ‘বিপিএম-সেবা’ পদক কুমিল্লা বুড়িচংয়ে ইউপি চেয়ারম্যানসহ আ. লীগের ১৩ নেতাকর্মী আ’ট’ক পাঁচবিবিতে ওসির অ’ভি’যা’নে মা’দ’ক ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে ১৬০ বোতল ফা’য়া’র’ডি’ল উ’দ্ধা’র

উখিয়ায় ১৩ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে না পারার পেছনে কারা জড়িত?

  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৫
  • ১৩৬ বার পঠিত

মোঃ জহির আলম বাপ্পি চৌধুরী
কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ

চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় প্রতারণার স্বীকার হয়ে পরীক্ষা দিতে পারেননি উখিয়ার হলদিয়া পালং আদর্শ বিদ্যাপীটের ১৩ শিক্ষার্থী। পরীক্ষা দিতে না পারায় জেলায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এঘটনায় হলদিয়া পালং আদর্শ বিদ্যাপীটের প্রধান শিক্ষককে আটক করে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে উখিয়ার হলদিয়া পালং আর্দশ বিদ্যাপীঠের নীল বনিয়াতে এ ঘটনা ঘটে।

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য যথাসময়ে তারা বাড়ি থেকে বের হয়ে আসেন। পরে তারা জানতে পারেন অন্যরা আগেভাগেই প্রবেশপত্র পেলেও তাদেরটা দেওয়া হয়নি। পরীক্ষা শুরুর আগে দেওয়ার কথা ছিল। সে কারণে স্কুলে এসেও তাদের প্রবেশপত্র দিতে পারেনি স্কুল কর্তৃপক্ষ। এতে করে ১৩ শিক্ষার্থীর আর এসএসসি পরীক্ষায় বসা হয়নি। 

তবে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির দাবী বড়বিল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাদ্দাম হোসেন এর কাছে প্রতারণার স্বীকার হয়েছে তারা।

বিদ্যালয়ের পরিচালক জহির উদ্দিন ভূঁইয়া জানায়,
আমাদের স্কুলের রেজিস্ট্রেশন না থাকায় অন্য স্কুলের মাধ্যমে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেওয়ানোর ব্যবস্থা করে থাকি তাই চলতি বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের রেজিষ্ট্রেশন কার্যক্রম যথারীতি উক্ত রুমখাঁ পালং উচ্চ বিদ্যালয় হইতে সম্পন্ন করে।কিন্তু টেস্ট পরীক্ষার পর উখিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জনাব খোরশেদ আলমের পরামর্শে তাহার পরিচিত উখিয়া উপজেলাধীন উত্তর বড়বিল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব সাদ্দাম হোসেন এর মাধ্যমে ট্রান্সফার রেজিষ্ট্রেশনের মাধ্যমে উত্তর বড়বিল উচ্চ বিদ্যালয় হইতে চলতি বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুরোধ করেন এবং সাদ্দাম হোসেনকে উক্ত বিদ্যালয়ে এনে তার সহিত পরিচয় করিয়ে দেন।তৎমতে তাহাদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ইউনুস সহ সকলের পরামর্শ মতে সাদ্দাম হোসেনকে ১৩ জন পরীক্ষার্থীর ট্রান্সফার রেজিষ্ট্রেশন বাবদ জনপ্রতি দুই হাজার আটশত টাকা হারে ছত্রিশ হাজার চারশত টাকা,শিক্ষা বোর্ডে যাতায়াত খরচ বাবদ দশ হাজার টাকা, ফরম পূরণ বাবদ জনপ্রতি পাঁচ হাজার পাঁচশত টাকা হারে একাত্তর হাজার পাঁচশত টাকা প্রদান করে।পরবর্তীতে ৩ জনের রেজিষ্ট্রেশন ভূল হয়েছে মর্মে পুনরায় টাকা দাবি করিলে আরো আট হাজার টাকা প্রদান করে।আমরা যথারীতি সরল বিশ্বাসে সমস্ত খরচ সাদ্দাম হোসেনকে প্রদান করি।

পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানের দিন পরীক্ষা সংক্রান্ত রেজিষ্ট্রেশন কার্ড,প্রবেশপত্রসহ যাবতীয় কাগজপত্র সরবরাহ করিবেন মর্মে আশ্বস্ত করেন।কিন্তু তিনি আমাদেরকে যথাসময়ে কাগজপত্র সরবরাহ না করায় এবং পরীক্ষার দিন ঘনিয়ে আসায় আমরা বার বার তার সহিত যোগাযোগ করে কাগজপত্র সংগ্রহের জন্য চেষ্টা করি এবং তিনি আজকাল করে কালক্ষেপণ করিতে থাকে।তিনি সর্বশেষ পরীক্ষার দিন সকালে আমাদের পরীক্ষার যাবতীয় কাগজপত্র সরবরাহ করিবেন মর্মে আশ্বস্ত করিয়া তার ব্যবহৃত মুঠোফোন বন্ধ করিয়া দেয়।উক্ত সাদ্দাম হোসেন আমাদের সরলতার সুযোগে আমাদের প্রতি বিশ্বাস জান্মাইয়া ছলচাতুরী ও প্রতারণামূলকভাবে বর্ণিতমতে আমাদের নিকট হইতে নগদ টাকা গ্রহন করিয়া বোর্ডে এসে কোন প্রকার কার্যক্রম সম্পন্ন না করে ১৩ জন শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা দেওয়া হইতে বঞ্চিত করিয়াছে।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও স্কুলের প্রধান শিক্ষক সর্বাত্মক চেষ্টা করা সত্ত্বেও উত্তর বড়বিল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাদ্দাম হোসেনের প্রতারণার কারণে তাদের স্কুলের ১৩ কোমলমতি শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করিতে না পারায় তারা মর্মাহত এবং প্রিয় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের নিকট করজোড়ে ক্ষমাপ্রার্থী।

অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেন উক্ত ঘটনার পর থেকে আত্ম গোপনে রয়েছে, তার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ কামরুল হাসান চৌধুরী জানান, হলদিয়া পালং আর্দশ বিদ্যাপীঠের ১৩ জন শিক্ষার্থী এবার এসএসসির প্রথম পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি। 
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) ও জেলা প্রশাসকসহ চট্টগ্রাম বোর্ডকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© All rights reserved © 2022 daily Ajker Songram
Customized By Shakil IT Park