সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
কুমিল্লা বুড়িচংয়ে ইউপি চেয়ারম্যানসহ আ. লীগের ১৩ নেতাকর্মী আ’ট’ক পাঁচবিবিতে ওসির অ’ভি’যা’নে মা’দ’ক ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে ১৬০ বোতল ফা’য়া’র’ডি’ল উ’দ্ধা’র কুমিল্লায় ১০-বিজিবির অ’ভি’যা’নে ৭৪ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি উ’দ্বা’র কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়ায় পৃথক অ’ভি’যা’নে ২৩৫০ ভারতীয় বাজিসহ গ্রে’প্তা’র-১৬ ঠাকুরগাঁওয়ে মিড ডে মিল খেয়ে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৭ শিক্ষার্থী হাসপাতালে দলীয় মনোনয়ন পেলে উন্নয়ন ও জনসেবায় কাজ করার প্রত্যয় শাহ আলমের কুমিল্লায় মা ও ভাতিজিকে কু’পি’য়ে হ’ত্যা, ছেলে আ’ট’ক বিজিবি কর্তৃক রাজশাহী সীমান্তে অ’ভি’যা’ন পরিচালনা করে ৩২ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের ০১ টি কষ্টি পাথর সদৃশ্য মূল্যবান পাথরের মূ’র্তি আ’ট’ক ন‌ওগাঁর পোরশায় ট্যা’পে’ন্টা’ড’লসহ দুই মা’দ’ক কারবারি আ’ট’ক নিয়ামতপুরে ৫০০ গ্রাম গাঁ’জা’সহ একজন গ্রে’প্তা’র

এক বছরে ১৩ হাজারেরও বেশি মামলা নিষ্পত্তি করেছে ঝিনাইদহের কালিগঞ্জ ভূমি অফিসার শাহীন আলম।

  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৫
  • ১০৩ বার পঠিত

মোঃ মাসুদ রানা,
ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ ভূমি অফিসার শাহিন আলম
এক বছরে ১৩ হাজারের বেশি মামলা নিষ্পত্তি
ভূমি মালিকদের অজ্ঞতা ও সচেতনতার অভাবে
সুযোগ নিচ্ছে দালালরা।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) মো. শাহিন
আলম কর্মস্থলে যোগদনের এক বছরে ১৩ হাজারের বেশি মামলা নিষ্পত্তি
করেছেন। এরমধ্যে প্রায় ১২ হাজারের বেশি নামজারি এবং ১০ বছর পর্যন্ত
ঝুলে থাকা এক হাজারের বেশি মিসকেস মামলা নিষ্পিত্তি করেছেন।
জনবল সংকট, সার্ভার জটিলতার মধ্যেও সেবাবান্ধব ব্যবহার, কাজের গতি,
জবাবদিহীতা ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে এক বছরে উপজেলাবাসীর দৃষ্টিতে
এসেছেন। এছাড়াও ক্যারিয়ার প্লানিং ও একাডেমিক ক্ষেত্রে দিক
নির্দেশনা প্রদানের মাধ্যমে তরুণ সমাজের মধ্যেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা
অর্জন করেছেন।
সরকরের সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অফিসে সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও দালাল
সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। এভাবে সেবা
প্রদানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহীতা ও দ্রæততার জন্য চলতি বছরের ২০২৪ সালের
সেপ্টেম্বর মাসে খুলনা বিভাগের শীর্ষে উঠে আসে নাগরিক সেবা
জনগুরুত্বপূর্ণ এ দপ্তরটি।
২০২৪ সালের ২২ এপ্রিল কালীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভ‚মি)
হিসেবে মো. শাহিন আলম যোগদান করেন। তার যোগদানের পর এ
অফিসের চিত্র পাল্টে যায়। তিনি ৩৮ তম বিসিএস এর কর্মকর্তা।
এসিল্যান্ড হিসেবে কালীগঞ্জ তার প্রথম কর্মস্থল।
নামজারি নিষ্পত্তির সরকার নির্ধারিত সময়সীমা ২৮ দিন এবং
মিসকেস এর ক্ষেত্রে ৯০ দিন। ২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এক হাজারের
মত মিসকেস পেন্ডিং ছিল। এক বছরে সকল মামলা নিষ্পত্তি করেছেন।
এসিল্যান্ড এর রুমসহ অফিসের প্রত্যেক রুমে সিসি ক্যামেরা স্থাপন
করা হয়েছে। আগে শুধু বাইরে ক্যামেরা ছিল।
সেবার প্রদানে জবাবদিহীত নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের
ভিত্তিতে অফিসের কয়েকজনের বিরুদ্ধে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি এবং
অন্যত্র বদলিসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাবলিক টয়লেট ও সীমানা
প্রাচীর নির্মাণ, আইডি কার্ড প্রদান, রেকর্ড রুম সংস্কারসহ
বিভিন্ন ভিজিল্যান্স কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
দালালদের দৌরাত্ম্য কমাতে সেবাগ্রহিতার ফোন নাম্বারসহ আবেদন ও
শুনানীতে নিজেদের উপস্থিত থাকার জন্য বলা হয়েছে। তবে, এ বিষয়ে
জনগণের ইতিবাচক সাড়া কম দেখা গেছে। একই সময়ে উপজেলার
ইউনিয়ন ভ‚মি অফিসসম‚হ পরিদর্শন করে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ব্যবস্থা
নেওয়া হয়েছে। অফিসে যাতে জনগণকে ৫ মিনিটের বেশি অপেক্ষা না
করতে হয় সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কালীগঞ্জ কাশিপুর গ্রামের মুস্তাফিজুর রহমান জানান, আমি একটি
নামজারির আবেদন করেছিলাম। সরকার নির্ধারিত সময় ২৮ দিন হলে মাত্র
১৩ দিনে আমার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সরকার নির্ধারিত ফি নিয়ে অল্প
সময়ে নামজারি আমার কাছে একেবারেই অকল্পনীয়। এর আগেও আমি ও
আমার পরিবার একই ধরনের নামজারির আবেদন করে দুই থেকে চার মাস
সময় লেগেছিল, সাথে অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়েছিল।
কালীগঞ্জ উপজেলা ৬নং বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা জহির রায়হান
জানান, গত দেড় বছর আগে করা আমার একটি মিসকেস আবেদন ছিল।
বর্তমান ভূমি অফিসার আসার পর আমার অভিযোগটি জানিয়েছিলাম।
এরপর মাত্র ৪০ দিনে তা সম্পন্ন হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছে একই অফিসে একটি মিসকেস শেষ হতে আগে ১ থেকে
১০ বছর পর্যন্ত লেগে যেত। এখন দুই মাসের মধ্যে সরকার নির্দারিত
ফিতে সে কাজ সম্পন্ন হচ্ছে। সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) হিসেবে মো.
শাহিন আলম যোগদানের পর চিত্র পাল্টে গেছে বলে জানায় স্থানীয়রা।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহিন আলম বলেন, কালীগঞ্জকে ভ‚মি
সেবার একটি রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে যেতে চাই। ভূমি
সেবাই স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ ও হয়রানি দূরীকরণ আমার প্রধান লক্ষ্য।
জনগণের হয়রানি দূরীকরণ, অফিসের সৌন্দর্য বৃদ্ধিকরণ ও কর্মপরিবেশ
উন্নয়নে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দালালদের দ্বারস্থ না
হয়ে নিজেদের ফোন নাম্বার দিয়ে আবেদন করা, শুনানীতে উপস্থিত হওয়া ও
ভ‚মি উন্নয়ন কর পরিশোধ বিষয়ে সচেতন করতে কাজ করছি। তবে দুঃখের
বিষয় জনগণের সচেতনতার অভাবে দাদালরা সুযোগ পাচ্ছে।
সেবাগ্রহিতাসহ সাধারন মানুষের সহযোগীতা পেলে সেবার মান
আরো বাড়বে বলে মনে করেন এ তরুণ ভূমি কর্মকর্তা।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© All rights reserved © 2022 daily Ajker Songram
Customized By Shakil IT Park