সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
কুমিল্লা বুড়িচংয়ে ইউপি চেয়ারম্যানসহ আ. লীগের ১৩ নেতাকর্মী আ’ট’ক পাঁচবিবিতে ওসির অ’ভি’যা’নে মা’দ’ক ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে ১৬০ বোতল ফা’য়া’র’ডি’ল উ’দ্ধা’র কুমিল্লায় ১০-বিজিবির অ’ভি’যা’নে ৭৪ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি উ’দ্বা’র কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়ায় পৃথক অ’ভি’যা’নে ২৩৫০ ভারতীয় বাজিসহ গ্রে’প্তা’র-১৬ ঠাকুরগাঁওয়ে মিড ডে মিল খেয়ে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৭ শিক্ষার্থী হাসপাতালে দলীয় মনোনয়ন পেলে উন্নয়ন ও জনসেবায় কাজ করার প্রত্যয় শাহ আলমের কুমিল্লায় মা ও ভাতিজিকে কু’পি’য়ে হ’ত্যা, ছেলে আ’ট’ক বিজিবি কর্তৃক রাজশাহী সীমান্তে অ’ভি’যা’ন পরিচালনা করে ৩২ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের ০১ টি কষ্টি পাথর সদৃশ্য মূল্যবান পাথরের মূ’র্তি আ’ট’ক ন‌ওগাঁর পোরশায় ট্যা’পে’ন্টা’ড’লসহ দুই মা’দ’ক কারবারি আ’ট’ক নিয়ামতপুরে ৫০০ গ্রাম গাঁ’জা’সহ একজন গ্রে’প্তা’র

আমার ছেলে জাহিদ হত্যার সঠিক তদন্ত ও বিচার চাই” – আর্তনাদ রহিমা খাতুনের।

  • আপডেট সময় : সোমবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৫
  • ১৭৪ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার কৈলাইল ইউনিয়নের নয়াকান্দা গ্রামে ঘটে যাওয়া নৃশংস হত্যাকাণ্ড এখনো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। দিনমজুর জাহিদকে জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে হত্যার এক বছর পার হলেও আজও প্রধান আসামি শাওন গ্রেপ্তার হয়নি। অথচ, শাওন দেশেই অবস্থান করছে এবং নিয়মিত সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয়।
কীভাবে ঘটলো ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড? ঘটনা ঘটেছে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক সংবাদ সম্মেলন করেন সেখানে,
বর্ণনা দেন জাহিদের মা রহিমা খাতুন!

২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর রাতে শাওন, কৈলাইল ইউনিয়ন যুবলীগের সেক্রেটারি ডয়েসের ভাগিনা, ফোন দিয়ে জাহিদকে ডেকে নেয়। সে জানায়, “আমার মামার দোকানে সিমেন্ট নামাতে হবে।” জাহিদ ও তার বন্ধু নাফিজ বেপারী ওরফে জান্নাত সায় দিলে তাদের বিল্ডিংয়ের কাছে নিয়ে যায়। সেখানেই জানানো হয়, “এই বাড়িতে আগুন দিতে হবে।”
কাজের মানুষ জাহিদ ও জান্নাত সাফ জানিয়ে দেয়—“আমরা খেটে খাওয়া মানুষ, এই কাজ করতে পারবো না।” এ কথার পরপরই শাওনসহ মুখোশধারী আরও কয়েকজন জাহিদের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। জান্নাত পালাতে সক্ষম হলেও জাহিদ পাশের আমবাগানে দগ্ধ অবস্থায় লুটিয়ে পড়ে। পরে বড় ভাই ও জান্নাত তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করে। ১৪ সেপ্টেম্বর মৃত্যুর সাথে লড়াই করে মারা যায় জাহিদ।
পুলিশি তদন্তে গড়িমসি ও অসঙ্গতি,
শুরু থেকেই মামলার তদন্তে অসংখ্য প্রশ্ন উঠে আসে। দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী আসামীদের সাথে আঁতাতের। নিহত জাহিদের পরিবার দাবি করেছে—
প্রধান আসামী শাওনকে গ্রেপ্তার না করে চার্জশীট প্রহসনের মতো তৈরি করা হয়েছে।মূল হোতাদের বাদ দিয়ে মামলার দুর্বল চার্জশীট দাখিল করা হয়েছে।
যেসব ব্যক্তি হত্যাকাণ্ড প্রত্যক্ষ করেছে তাদের বাদ দিয়ে ভুয়া সাক্ষী বানানো হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছে, আওয়ামী লীগ নেতা মালেক দেওয়ানের ছেলে কায়েতের শ্বশুর বাড়িতে আগুন দেওয়ার ফাঁদ তৈরি করেছিল রতন ও এমদাদুল। তাদের “ডান হাত” শাওনের মাধ্যমে জাহিদকে ফাঁদে ফেলা হয়।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ
জাহিদের মা রহিমা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন—
আমার ছেলে খেটে খাওয়া মানুষ ছিল। অন্যায় করতে রাজি হয়নি বলেই তাকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। এক বছরেও আসামী ধরা হলো না। পুলিশ টাকা খেয়ে প্রভাবশালীদের বাদ দিয়ে চার্জশীট দিয়েছে। আমার ছেলে মারা গেছে, এখন আবার বড় ছেলেকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানাই— আমার জাহিদের হত্যার সঠিক তদন্ত ও বিচার চাই।
হুমকি ও আতঙ্কপরিবারের দাবি, জাহিদ হত্যার পর একাধিকবার স্থানীয় প্রভাবশালী মহল থেকে ভয়ভীতি ও সমঝোতার চাপ এসেছে। এমনকি বলা হয়েছে—“এক ছেলে গেছে, যদি মীমাংসা না করো তাহলে বড় ছেলেকেও মরতে হবে।এ মাসের ১৯ তারিখে জামিনে মুক্ত হয়ে এমদাদুল ও রতন স্থানীয় কিশোর গ্যাং নিয়ে জাহিদের বাড়ির সামনে বিজয় মিছিল করে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছে।
তদন্তে প্রভাবশালীদের নাম বাদ!
জাহিদের পরিবারের দাবি, মামলার চার্জশীটে যেসব নাম বাদ দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছে:মালেক দেওয়ান নাজমা বেগম,এমদাদুল দেওয়ান,রতন দেওয়ান,মোতালেব শিকদার,রুমন আলী,চয়ন রাব্বি দেওয়ান,মোসলেম উদ্দিন পায়েল
এছাড়া আরও অনেককে বাদ দিয়ে চার্জশীট দুর্বল করা হয়েছে।গ্রামবাসীর বক্তব্যগ্রামবাসী বলেন—এমন জঘন্য হত্যাকাণ্ডের বিচার না হলে ভবিষ্যতে আরও জাহিদ এভাবে প্রাণ হারাবে। প্রভাবশালীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
অনুসন্ধানী পর্যবেক্ষণ প্রমাণ, সাক্ষ্য, ও পারিবারিক বক্তব্যে স্পষ্ট— মামলার তদন্তে চরম গাফিলতি ও প্রভাব খাটানো হয়েছে। প্রধান আসামী শাওন দেশেই থেকে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে, অথচ পুলিশ তাকে ধরছে না। স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের যোগসাজশে বিচার প্রক্রিয়া ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল।

জাহিদের মা রহিমা খাতুনের আর্তি আজ শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি এক বড় প্রশ্ন।
তিনি ও গ্রামবাসীর দাবি একটাই—
“জাহিদ হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত হোক, প্রকৃত আসামীদের ফাঁসি হোক।”

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© All rights reserved © 2022 daily Ajker Songram
Customized By Shakil IT Park