
যশোর প্রতিনিধি:
যশোরের রাজারহাট এলাকায় পুলিশ পরিচয়ে সংঘটিত স্বর্ণ ডাকাতি মামলায় চারজন আসামীকে গ্রেফতার করেছে যশোর কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি)। এসময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত হ্যান্ডক্যাপ, ওয়াকি-টকি ও প্রাইভেটকারসহ ডাকাতদের কাছ থেকে স্বর্ণালংকারও উদ্ধার করা হয়।
গত ১৪ জুলাই সকালে যশোরের কোতয়ালী থানাধীন রাজারহাট রেলক্রসিং এলাকায় পুলিশ পরিচয়ে কয়েকজন দুর্বৃত্ত প্রাইভেটকার গতিরোধ করে ব্যবসায়ী সুধীর কুমার দাসের শ্যালক আনন্দ বসু ও কর্মচারী রাসেল গাজীকে হ্যান্ডক্যাপ ও চোখ বেঁধে ১৯ ভরি ৮ আনা স্বর্ণ, নগদ ২৬ হাজার টাকা এবং ৪টি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে তাদের মনিরামপুর উপজেলার ট্যাংরাখালী এলাকায় ফেলে যায়। এ ঘটনায় কোতয়ালী থানায় ডাকাতি মামলা (নং-৫৫, তারিখ ১৫/০৭/২০২৫) দায়ের করা হয়।
তদন্তে আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ডাকাতদের সনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এরপর ২০ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর কোতয়ালী থানাধীন তাঁতীবাজার এলাকার হাজী মার্কেট থেকে দুই আসামী মো. উজ্জল হোসেন ও নিশান হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকার গলানো অবস্থায় ৫ ভরি ১১ আনা সোনা উদ্ধার করা হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা।
গ্রেফতারকৃতদের তথ্য অনুযায়ী একইদিন রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে যশোরের চাঁচড়া মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও দুইজন সহযোগী মো. মুসাব্বির হোসেন টুটুল ও রতন শেখকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি সাদা প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-খ-১১-৮০৫৭), এক জোড়া স্টিলের হ্যান্ডক্যাপ, দুটি ওয়াকি-টকি (BAOFENG ব্র্যান্ড) ও দুইটি সাদা কসটেপ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামী নিশান হোসনের নামে খুন, ডাকাতি, অস্ত্র ও ধর্ষণসহ ১৮টি মামলা রয়েছে। আর উজ্জল হোসনের নামে রয়েছে ৪টি মামলা। তারা দুজনই চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ডাকাত।
গ্রেফতারকৃতরা হলো—
১। মো. নিশান হোসেন (২৫), ষষ্ঠীতলা পাড়া, কোতয়ালী, যশোর।
২। মো. উজ্জল হোসেন (২৯), গোগা গাজিপাড়া, শার্শা, যশোর।
৩। রতন শেখ (৪৫), খড়কি বামনপাড়া, কোতয়ালী, যশোর।
৪। মো. মুসাব্বির হোসেন টুটুল (২১), পুলেরহাট তফসি ডাঙ্গা, কোতয়ালী, যশোর।
গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।