
আঃ কাদের বড়াইগ্রাম ( নাটোর) প্রতিনিধি :
চাল-ডালসহ সকল নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দাম বেশি,এলাকায় কাজ-কাম নাই, তাই এখানে আসছি। এ এলাকায় এখন কাজের মৌসুম। ভোর চারটার সময় ট্রাকে চড়ে চলে আসি। ভোরে এসে দাঁড়ালে দরদাম করে গৃহস্হরা কাজে নিয়ে যায়, এভাবেই বর্ননা দিচ্ছিলেন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থেকে আসা শ্রমিক শফিকুল ইসলাম। শুধু তিনিই নন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন তার মতো প্রায় হাজার খানেক শ্রমিক আসেন নাটোরের বড়াইগ্রামের রয়না ভরটে শ্রমিকের হাটে। মঙ্গলবার ভোরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় অসংখ্য কৃষক শ্রমিকের কোলাহল। কারো হাতে কাঁচি, কারো হাতে কাপড়ের পোঁটলা। মাঝে মাঝে কিছু লোক এসে তাদের সঙ্গে কথা বলছেন দর কষাকষি চলছে। আশেপাশে দাঁড়িয়ে বসে আছে প্রায় হাজার খানেক শ্রমিক। প্রতিদিন ভোরে এখানেই বসে শ্রম বিক্রির হাট। বর্তমানে ভোগ্যপন্য সহ সকল ধরনের দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কারনে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ উর্পাজনের আশায় এখানে কাজের সন্ধানে আসেন। বিভিন্ন স্থান থেকে আসা কয়েকজন জানান, তাদের নিজের কিছু জমি রয়েছে তারা কখনও অন্যের জমিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেননি তবে বাজার দরের সাথে কুলিয়ে উঠতে না পেড়ে বাধ্য হয়েই দূরবর্তী শ্রমিক এর হাটে এসেছেন। প্রতিদিনই এখানে তাদের মতো শ্রমজীবী মানুষের ভিড় বাড়ছে বলে জানান স্থানীয়রা । জানা গেছে নাটোর জেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী সিরাজগঞ্জ, পাবনা,বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এ হাটে শ্রম বিক্রি করতে আসে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ । বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়ক চালু হওয়ার পর থেকে রসুন প্রধান এ এলাকায় গত প্রায় দেড় যুগ ধরে এ মৌসুমে প্রতিদিনই ভোরে বসে এ শ্রম বিক্রির হাট । বড়াইগ্রাম ও গুরুদাসপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের গৃহস্থরা এ হাট থেকে দরদাম করে শ্রমিক নিয়ে যান তাদের কাজে । বর্তমানে এ এলাকায় আমন ধান কাটা-মাড়াই ও বিনা হালে রসুন তোলার কাজ চলছে পুরোদমে। তাই এলাকায় শ্রমিকের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। স্থানীয়রা জানান প্রতি বছরের তুলনায় এ বছর শ্রমিকের মজুরী একটু বেশি। তবে শ্রমিকের বয়স ও কাজের দক্ষতার কারনে মজুরী কম বেশি হয়ে থাকে। কাজ ভেদে মজুরী ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। বড়াইগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান মমিন আলী বলেন প্রায় ১৮-২০ বছর যাবৎ রয়না ভরটে শ্রমিকের হাট বসে । এতে গৃহস্থরা হাটে এসে সহজেই চাহিদামতো শ্রমিক পাচ্ছেন, আবার শ্রমিকেরাও প্রতিদিন কাজ খুঁজে পাচ্ছে । এতে সবারই সুবিধা হয়েছে ।