
গোলাম মোস্তফাঃ
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় কেমিক্যাল মিশ্রিত বিপুল পরিমাণ ভেজাল মধু জব্দ করে জনসম্মুখে ধ্বংস করেছে উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ভোরে ভাঙ্গুড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
ঘটনাটি ঘটে চলনবিলখ্যাত ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের দুধবাড়িয়া গ্রামে। প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, চিনি, ফিটকিরি ও বিভিন্ন ক্ষতিকর কেমিক্যাল মিশিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নকল মধু তৈরি ও বাজারজাত করে আসছিলেন মোঃ রমজান আলী নামে এক অসাধু ব্যবসায়ী।
স্থানীয়দের কাছ থেকে সংবাদ পেয়ে ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে এলাকাবাসী ওই ব্যবসায়ীর একটি গাড়ি আটক করে। এ সময় ৪১টি ড্রামে (প্রতিটি ৫০–৫৫ কেজি ধারণক্ষমতা) প্রায় ৫১ মণ নকল মধু পাওয়া যায়। পরে উপজেলা প্রশাসন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
তবে প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত মোঃ রমজান আলী পালিয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। জানা গেছে, এর আগেও তিনি নকল মধুসহ পুলিশের হাতে আটক হয়ে কারাভোগ করেছিলেন।
এলাকাবাসী জানান, খানমরিচ ইউনিয়নের বড়পুকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোঃ রমজান আলী মৌচাষের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে নকল মধু উৎপাদন করে আসছিলেন। মৌচাষের খামারকে কেন্দ্র করে চিনি ও কেমিক্যাল মিশিয়ে এসব ভেজাল মধু বাজারে সরবরাহ করা হতো।
পরে প্রশাসন জব্দ করা নকল মধু একটি খালে ঢেলে ধ্বংস করে। খালি ড্রামগুলো স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মনোয়ার হোসেনকে একটি এতিমখানা ও মাদ্রাসায় দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
খানমরিচ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মনোয়ার হোসেন বলেন,
“রমজান আলী দীর্ঘদিন ধরেই এই নকল মধুর ব্যবসা করে আসছেন। এলাকাবাসীর সচেতনতার কারণেই বিষয়টি ধরা পড়েছে। ভবিষ্যতে যেন তিনি এ ধরনের কাজ করতে না পারেন, সে জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
ভাঙ্গুড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মিজানুর রহমান বলেন,
“অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি বলে ভ্রাম্যমাণ আদালতে শাস্তি দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশকে তার ওপর নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”