
মনিরুজ্জামান মিলন পাটোয়ারী, নীলফামারী
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১৪-নীলফামারী–০৩ সংসদীয় আসন জলঢাকায় নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। জামায়াত মনোনীত দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফিকে ঘিরে ক্রমেই মোড় ঘুরছে নির্বাচনী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। শান্তিপূর্ণ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও আইনানুগ প্রচার কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে তিনি ভোটারদের আস্থা অর্জনে এগিয়ে যাচ্ছেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই জলঢাকার পৌর এলাকা থেকে শুরু করে ইউনিয়নের হাট-বাজার, পাড়া-মহল্লা ও গ্রামীণ জনপদে বাড়ছে নির্বাচনী তৎপরতা। তবে অন্যান্য আসনের তুলনায় জলঢাকায় দাড়িপাল্লা প্রতীক ঘিরেই বেশি আলোচনা চোখে পড়ছে। ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়, উঠান বৈঠক ও গণসংযোগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মেনে প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন জামায়াত প্রার্থী ও তার সমর্থকেরা। শৃঙ্খলিত প্রচারেই শক্ত বার্তা জেলা জামায়াতের মজলিসে শূরা সদস্য ও সাবেক রংপুর বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফি নির্বাচনী মাঠে ব্যক্তিগত আচরণ ও বক্তব্যে সংযম বজায় রেখে এগোচ্ছেন। তার প্রচারণায় উন্নয়ন, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, ইনসাফভিত্তিক সমাজ ও জনকল্যাণমূলক রাজনীতির বিষয়গুলোই প্রাধান্য পাচ্ছে।
স্থানীয় ভোটারদের মতে, শান্ত ও আইন মেনে চলা প্রচারণাই একজন প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা বাড়ায়। ওবায়দুল্লাহ সালাফির প্রচার কার্যক্রমে সে বিষয়টি স্পষ্ট। ঐতিহাসিক সমর্থন ও বর্তমান বাস্তবতা জলঢাকা আসন দীর্ঘদিন ধরেই জামায়াত অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। অতীতে জামায়াতের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার ইতিহাস এবং সেই সময়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এখনও ভোটারদের স্মৃতিতে রয়েছে। সেই রাজনৈতিক ঐতিহ্যকে সামনে রেখে এবারও সংগঠিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছে জামায়াত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াই ঘুরপাক খাচ্ছে জামায়াত ও বিএনপিকে কেন্দ্র করে। তবে জামায়াত প্রার্থীর শান্ত ও আইনি প্রচার কৌশল ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আইন ও বিধি মানার অঙ্গীকার
নির্বাচনী সূত্র জানায়, দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ও তার সমর্থকেরা নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি মেনে পোস্টার, লিফলেট ও গণসংযোগ পরিচালনা করছেন। কোথাও বিশৃঙ্খলা বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি যাতে না ঘটে সে বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সংশ্লিষ্ট সবাই। ভোটারদের দৃষ্টি এখন ফলের দিকে মোট প্রায় তিন লাখ ভোটার অধ্যুষিত এই আসনে প্রতিটি ভোটকেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নতুন ভোটারদের অংশগ্রহণও নির্বাচনী সমীকরণে বাড়তি গুরুত্ব যোগ করেছে। সব মিলিয়ে, শান্তিপূর্ণ ও আইনানুগ নির্বাচনী পরিবেশে কার পাল্লা ভারী হয় সেদিকেই তাকিয়ে আছে জলঢাকাবাসী। শেষ পর্যন্ত ভোটের রায়ে সত্যিই কি জলঢাকার রাজনীতির মোড় দাড়িপাল্লার দিকে ঘুরে যায় তা জানতে আর বেশি অপেক্ষা নেই।