
ই.ক.ম.জী. দে. উজ্জ্বলঃ
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার ফকিরহাটী বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়িয়েছে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন এবং নতুন করে ব্যবসা শুরু করার লক্ষ্যে ৬৯ জন ব্যবসায়ীর মাঝে নগদ আর্থিক অনুদান বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) বিকেল ৪টায় ভূরুঙ্গামারী উপজেলা প্রশাসনের হলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ অনুদান বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব সাইফুর রহমান রানা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কাজী আলাউদ্দিন মণ্ডল এবং সদস্য সচিব শহিদুল ইসলাম আকন্দ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ভূরুঙ্গামারী বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমান মামুন ব্যাপারী, বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম ইয়াছিন, সোনালী ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা আবুল কালাম বাচ্চু, কাশেম আলী, ভূরুঙ্গামারী মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক এ কে এম শওকত হোসেনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আলহাজ্ব সাইফুর রহমান রানা বলেন, ফকিরহাটী বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন। তাদের এই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে দেওয়া এই আর্থিক সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের নতুনভাবে ব্যবসা শুরু করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের কষ্ট লাঘবে সরকার ও সংশ্লিষ্ট মহল সবসময় আন্তরিক। ভবিষ্যতেও যেকোনো দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। তিনি ব্যবসায়ীদের ধৈর্য ধারণ করে নতুন উদ্যমে ঘুরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
বক্তারা বলেন, আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডে অনেক ব্যবসায়ীর দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ও পুঁজি মুহূর্তেই পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে প্রদত্ত এই আর্থিক সহায়তা ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়োপযোগী উদ্যোগ। এটি তাদের ব্যবসা পুনরায় চালু করতে যেমন সহায়তা করবে, তেমনি তাদের মনোবলও বৃদ্ধি করবে।
অনুদানপ্রাপ্ত ব্যবসায়ীরা সরকারের এ মানবিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, অগ্নিকাণ্ডে তারা সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। এই আর্থিক অনুদান তাদের নতুনভাবে ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং পরিবার নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস জোগাবে।
অনুষ্ঠিান শেষে ক্ষতিগ্রস্ত ৬৯ জন ব্যবসায়ীর প্রত্যেকের হাতে নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সুধীজনরা এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে ভবিষ্যতেও এমন সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।