
শাহেদ আহমেদ,
সাতক্ষীরা:
বেতন-ভাতা তিন গুণ বৃদ্ধি এবং বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে স্থায়ী স্বীকৃতির দাবিতে সারাদেশে ঘোষিত কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে টানা চতুর্থ দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করেছেন বাংলাদেশ ডাক বিভাগের শাখা ডাকঘরের এক্সট্রা ডিপার্টমেন্টাল (ইডি) কর্মচারীরা। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সাতক্ষীরায় বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ এবং জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
দুপুর ২টায় শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়নের শাখা ডাকঘরে কর্মরত ইডি কর্মচারীদের অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সাতক্ষীরা প্রধান ডাকঘরের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। পরে আন্দোলনকারীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। সমাবেশ শেষে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দুই দফা দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়।
মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের প্রায় ৮ হাজার ৫০০টি শাখা ডাকঘরে প্রায় ২৩ হাজার এক্সট্রা ডিপার্টমেন্টাল (ইডি) কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। গ্রামাঞ্চলের মানুষের ডাক ও আর্থিক সেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও তারা এখনো বৈষম্যের শিকার। বর্তমান দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যমান বেতন-ভাতা দিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবনযাপন করা অত্যন্ত দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একই প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করলেও তাদের বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে স্থায়ী স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। ফলে চাকরির নিরাপত্তা, পদোন্নতি, অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। বহুবার দাবি জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি বলেও অভিযোগ করেন তারা।
স্মারকলিপিতে কর্মচারীদের পক্ষ থেকে দুই দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় ও বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন-ভাতা তিন গুণ বৃদ্ধি এবং শাখা ডাকঘরের সকল এক্সট্রা ডিপার্টমেন্টাল (ইডি) কর্মচারীকে বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে স্থায়ী স্বীকৃতি প্রদান।
আন্দোলনকারীরা বলেন, তাদের দাবি কোনো নতুন দাবি নয়; দীর্ঘদিন ধরে তারা ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করে আসছেন। সরকারের কাছে বারবার আবেদন জানানো হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছে। দ্রুত দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও তারা হুঁশিয়ারি দেন।
কাদাকাটি শাখা ডাকঘরের পোস্টমাস্টার শিহাব উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন এল্লারচর শাখা ডাকঘরের পোস্টমাস্টার মো. আক্তারুল ইসলাম, তালা উপজেলার হরিহরনগর শাখা ডাকঘরের পোস্টমাস্টার আবুল কালাম আজাদ, রসুলপুর শাখা ডাকঘরের পোস্টমাস্টার ফারহানা খান, জগন্নাথপুর শাখা ডাকঘরের পোস্টমাস্টার আজরাতু জান্নাতসহ জেলার বিভিন্ন শাখা ডাকঘরের ইডি কর্মচারীরা।
সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে তাদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় রেখে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।