
স্টাফ রিপোর্টার :
পার্বতীপুরে মা মেয়ের লাশ ১৩ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে উপজেলার ৭ নং মোস্তফাপুর ইউনিয়নের কালিরহাট ছোট চন্ডিপুর গ্রাম থেকে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। জানা গেছে পার্বতীপুর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের কালিরহাট ছোট চন্ডিপুর গ্রামে এমন ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। নিহতরা হলেন, ঐ গ্রামের রিপেন চন্দ্রের স্ত্রী ছবি রানী (৪০) এবং তার মেয়ে পল্লবী রানী (১৪)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ বিকেলে দিকে দীর্ঘ সময় ধরে ঘরের দরজা বন্ধ ছিল। এ অবস্হা পরিবারের লোকদের সন্দেহ হয়। পরে রিপেন চন্দ্র স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় ঘরের কাঠের বর্গায় লাগানো সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মা ও মেয়েকে ঝুলতে দেখা যায়। তাঁদের দ্রুত নিচে নামানো হলেও ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্বজনরা নিশ্চিত হন। ঘটনার সুত্রে ছবি রানীর ভাই সুশীল চন্দ্র বলে পারিবারিক কলোহের জেরে কারণে আমার বোন ও ভাগনী আত্নহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে। ছবি রানীর বাবার বাড়ী হাবড়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে। সে আরও বলে
একমাত্র মেয়ে পল্লবী রানী রায় ( ১৪ )। সে গোল্ডেন হোফ রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্রী। একই শ্রেনীর ছাত্র বুলেট রাজের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। প্রায় ১৫ দিন আগে বাড়ী থেকে পালিয়ে যায় পল্লবী। তার বাবা মেনে না নিয়ে, আমার বোনের উপর চাপ সৃষ্টি করে। তখন আমার বোন গোপনে মেয়েকে বিয়ে দেন বুলেটের সাথে। পরে বিষয়টি জানতে পেয়ে মা- মেয়ের উপর ক্ষিপ্ত হয় রিপন চন্দ্র। বাবা কৌশলে মেয়েকে বাড়ীতে নিয়ে আসেন। এরপর শুরু হয় মা-মেয়ের উপর মানসিক নির্যাতন। এ যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে সোমবার বিকেল ৫ টার দিকে ঘরের দরজা বন্ধ করে সিলিং ফ্যানে একই ওরনায় ফাঁস দিয়ে আত্নহত্যা করে মা- মেয়ে। পরে পার্বতীপুর মডেল থানার পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করে থানায় নিয়ে আসে। এরপর লাশ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলে। এ বিষয়ে পার্বতীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল ওয়াদুদ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কী কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানান।