
মনিরুজ্জামান মিলন পাটোয়ারী, নীলফামারী
নীলফামারীর জলঢাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে রাতের আঁধারে ধানক্ষেতে বিষ প্রয়োগ করে ফসল নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রায় ২৫ শতক জমির ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষক। ঘটনাটি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দিবাগত রাতে উপজেলার বালাগ্রাম ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জুম্মাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ৪৫ শতক জমির মধ্যে প্রায় ২৫ শতক জমির ধান লালচে হয়ে শুকিয়ে গেছে। স্থানীয়দের ধারণা, ধানক্ষেতে কোনো ধরনের আগাছানাশক বা বিষাক্ত ওষুধ প্রয়োগের কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে। তবে রাতের আঁধারে কে বা কারা ওই ওষুধ প্রয়োগ করেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জমির মালিক শরিফুল ইসলাম বলেন, প্রায় ২০-২৫ দিন আগে ১৫/২০ হাজার টাকা খরচ করে ওই জমিতে ধান চাষ করেন তিনি। ধানও ভালো ভাবে বেড়ে উঠছিল। কিন্তু হঠাৎ করে রাতের আঁধারে কে বা কারা ধানক্ষেতে ঘাসমারা ওষুধ প্রয়োগ করায় ধানগুলো লাল হয়ে শুকিয়ে যেতে শুরু করে। পূর্বশত্রু তার জেরে প্রতিপক্ষ আব্দুল হাই গং এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। শরিফুল আরও বলেন, ধানক্ষেতে বিষ প্রয়োগের বিষয়টি নিয়ে সকালে আব্দুল হাইয়ের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয় এবং একপর্যায়ে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে। এর আগেও ওই জমির পাশ দিয়ে লাগানো আম, কাঁঠাল, মেহগনি ও ইউক্যালিপটাস গাছ আব্দুল হাই গং ভেঙে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় তিনি জলঢাকা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বলেও জানান। তবে শরিফুল ইসলামের অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল হাই বলেন, ওই জমিতে তিনিই ধান চাষ করেছেন। বরং পরিকল্পিত ভাবে রাতের আঁধারে তার ধানক্ষেতে বিষ প্রয়োগ করে ফসল নষ্ট করা হয়েছে। জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি। বিষয়টি সুষ্ঠু ভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান আব্দুল হাই। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হক বলেন, জমিটি শরিফুলরা অনেক আগে থেকেই চাষাবাদ করে আসছেন বলে তিনি জানেন। তবে জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আগে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে এবং এ নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি। সকালে তিনি জমির ধান লাল হয়ে যেতে দেখেছেন। কিন্তু রাতের আঁধারে কে বা কারা ধানক্ষেতে ঘাসমারা ঔষুধ প্রয়োগ করেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। স্থানীয়রা জানান, একজন কৃষক দীর্ঘদিন পরিশ্রম ও অর্থ ব্যয় করে ফসল ফলানোর পর তা নষ্ট হয়ে গেলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। তাই ধানক্ষেতে বিষ প্রয়োগের অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক শরিফুল ইসলাম জলঢাকা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানান। অভিযোগের তদন্ত শেষে ধানক্ষেত নষ্টের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।