
স্টাফ রিপোর্টার –
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার জৈনসার ইউনিয়নের জামায়াত নেতা মাওলানা মনির শেখকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসায় স্থানীয়ভাবে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। গত এক সপ্তাহে তামান্না ডেন্টাল কেয়ার নামে একটি ক্লিনিককে কেন্দ্র করে অর্থ বেশি নেওয়া ও রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগের পর এবার খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণ নিয়েও তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের দাবি, খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদপ্তরের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১৫ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির জন্য সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি অনিয়ম করছেন। একই সঙ্গে অসহায় নারীদের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে অর্থ দাবি এবং অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
‘সাথী’ নামে এক নারী অভিযোগ করে বলেন, স্বামী সন্তান রেখে চলে যাওয়ায় তিনি বাড়িতে বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির একটি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে দীর্ঘদিন ঘোরানো হয়েছে এবং একপর্যায়ে তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে তার দাবি।
অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কার্ডধারী নারী অভিযোগ করেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৩০ কেজি চাল পাওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন সময়ে মেপে পাওয়া যায় ২৫, ২৭ ও ২৮ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে কার্ড বাতিল করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা এনি রহমান বলেন, “অপরাধ করলে অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হবে।” তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই ও তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এদিকে মাওলানা মনির শেখ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এগুলো সব মিথ্যা। আমি জৈনসারের চেয়ারম্যান নির্বাচন করছি, আমাকে সবাই চেনে। আমি ইউনিয়ন জামায়াতের আমির।”
স্থানীয়দের মতে, সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সামাজিক নিরাপত্তামূলক কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে বিষয়টি যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং অভিযোগ মিথ্যা হলে অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।