
নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার ইলুহার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শহীদ চেয়ারম্যানের বাটায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকদ্রব্যের কারবার ও সেবনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, স্থানটি বর্তমানে মাদক সেবনের একটি আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, গত ৭ অক্টোবর ২০২৬ রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে শহীদ চেয়ারম্যানের বাটায় কয়েকজন ব্যক্তি মাদক সেবন করছিলেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা কবির তালুকদারের ছেলে সাইমন ঘটনাটি দেখতে পেয়ে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ শুরু করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাদক সেবনকারী ও সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলায় সাইমন গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বরিশালের একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় মাদক সেবন ও হামলাকারী হিসেবে উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে রফিক মেস্তরির ছেলে শরিফ ও বিকাশ নামে দুই যুবক ছিলেন। তারা ইলুহার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ তাদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততারও অভিযোগ করেছেন। তারা নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ এর সক্রিয় সদস্য ছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এবং পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, আহত সাইমনকে হামলার ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। এ বিষয়ে সাঈদ নামের এক ব্যক্তিসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা ইলুহার ৩ নম্বর ওয়ার্ডসহ আশপাশের এলাকায় মাদকদ্রব্যের অবৈধ কারবার ও সেবন বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও অভিযান পরিচালনার দাবি জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, সাইমনের ওপর হামলার ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। পাশাপাশি শহীদ চেয়ারম্যানের বাটায় মাদক সেবন ও কথিত মাদক কারবারের অভিযোগও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানা পুলিশের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।