শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
নেছারাবাদে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে বিএনপি নেতা নাসির তালুকদারের সংবাদ সম্মেলন সড়কের কাজে দুর্নীতি বালুর বদলে মাটি, হাতেনাতে ধরা এমপি’র হাতে সাভারে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী জামিল গ্রেপ্তার, আগের পাঁচ মামলাও বিচারাধীন টেকনাফে এসআরবি-বিজিবির যৌথ অভিযানে ৩ লাখ ইয়াবা উদ্ধার রাজবাড়ীতে শারদীয়া দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে জেলা পুলিশের মতবিনিময় সভা পার্বতীপুরে পৃর্বস্হানে ইউ’পি পরিষদ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন নেছারাবাদে জরুরবাড়ি সংলগ্ন খালে শুক্রবার বসছে মিনি নৌকা বাইচের আসর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে কুমিল্লা মহানগর জাসাসের বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল গোপালগঞ্জে ৩ কর্মকর্তা- কর্মচারীর সিন্ডিকেটে জিম্মি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস সীমাহীন ভোগান্তি সিদ্ধিরগঞ্জে গৃহবধূকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

গোপালগঞ্জে ৩ কর্মকর্তা- কর্মচারীর সিন্ডিকেটে জিম্মি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস সীমাহীন ভোগান্তি

  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৬ বার পঠিত

লুৎফর সিকদার ,
গোপালগঞ্জ:

গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা- কর্মচারীর সিন্ডিকেটের কাছে সাধারণ সেবা গ্ৰহীতারা অসহায় হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত হচ্ছেন হয়রানি ও দুর্ব্যবহারের শিকার। ঘুষ ছাড়া মিলছে না সেবা। এমনটাই অভিযোগ উঠেছে গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তাদের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে একাধিক ভুক্তভোগীরা গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ করেছেন।
ভুক্তভোগীদের লিখিত ও মৌখিক অভিযোগের সূত্র ধরে সরেজমিন অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও ঘুষ আদায়ের চাঞ্চল্যকর তথ্য। অনুসন্ধানে জানা যায় খোদ সহকারী পরিচালক (এডি) নাহিদ নেওয়াজের গোপন নির্দেশেই চলছে ওই চক্রটি। এই সিন্ডিকেটের প্রধান সেনাপতি হিসেবে কাজ করেন ওই অফিসের উচ্চমান সহকারী অমিত কুমার পাল। তিনি মুলত অফিসের সেকেন্ড অফিসার হিসেবে ভবনের ২য় তলার ২০৬ নম্বর রুমে বসেই নিয়ন্ত্রণ করেন সবকিছু। তার সহকারী হিসেবে নিচতলার ১০১ নম্বর রুমে দায়িত্ব পালন করেন সহকারী হিসাব রক্ষক বাপ্পু মিত্র।
সহকারী পরিচালক নাহিদ নেওয়াজ, উচ্চমান সহকারী অমিত কুমার পাল ও সহকারী হিসাব রক্ষক বাপ্পু মিত্র এই তিন জনেই মূলত সিন্ডিকেটের কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। পাশাপাশি তারা তৈরি করেছেন কিছু ভলেন্টিয়ার/হেল্পিং হ্যান্ড। ভলেন্টিয়ার হিসেবে কাজ করে পাসপোর্ট অফিসের সিকিউরিটির দায়িত্বে নিয়োজিত বেশকিছু আনসার ও পুলিশ সদস্য। এছাড়াও ওই প্রভাবশালী সিন্ডিকেটে রয়েছে অফিসের ভিতরে এবং বাহিরে প্রায় ৫০ এর অধিক নিয়োগ প্রাপ্ত দালাল। মূলত আনসার ও পুলিশ সদস্য ও নিয়োগপ্রাপ্ত দালালদের মাধ্যমে টাকা আদায় করা হয়।
জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া ভুক্তভোগী নারী করুনা রানী বিশ্বাস আমাদের প্রতিনিধিকে জানান, আমার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মেয়ে সিমলা রানী বিশ্বাস ২৩ এর পাসপোর্ট করতে গিয়ে আমি দিনের পর দিন ঘুরতে ঘুরতে নাজেহাল হয়েছি। পাশাপাশি কর্মকর্তাদের দুর্ব্যবহার ও হুমকি ধামকিতে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছি। সরকারি নিয়মে পাসপোর্টের আবেদন পত্র জমা করতে না পেরে নিরুপায় হয়ে ঘুষ দিয়ে আবেদন পত্র জমা করেয়েছি। ঘুষ ছাড়া গোপালগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে কোন কাজই হচ্ছে না। আমি এ সকল অনিয়ম অব্যবস্থাপনা ও ঘুষ বাণিজ্যের বিচারের দাবিতে ডিসি স্যারের কাছে অভিযোগ করেছি।
নিয়ম অনুযায়ী পাসপোর্ট করতে আগ্ৰহী মানুষেরা প্রথমে যে কোন কম্পিউটারের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করার পর মূল কপি জমা করতে সরাসরি পাসপোর্ট অফিসে আসতে হয়। নিচ তলার ১০১ নম্বর রুমে পাসপোর্টের আবেদনের মূল কপি জমা নেওয়ার বুথ হিসেবে ব্যবহার করে কর্তৃপক্ষ। এখানে বসে থাকেন সিন্ডিকেটের প্রভাবশালী সদস্য বাপ্পু মিত্র। উদ্দেশ্যে প্রণোদিত ভাবে উৎকোচ আদায়ের উদ্দেশ্যে অধিকাংশ পাসপোর্ট আবেদনের কাগজপত্রে ভুল ধরে রিফিউজ করেন। কোথায় কি ভুল হয়েছে তা জিজ্ঞেস করতেই অসহযোগিতা ও অশালীন আচরণ করে শুরু হয় নানা নাটকীয়তা। হতাশায় ভূগতে শুরু করেন সেবা গ্ৰহীতারা। এই সুযোগ কাজে লাগায় আনসার ও অন্যান্য দালাল চক্রের সদস্যরা। তারা সেবা গ্ৰহীতাদের সহজে পাসপোর্ট করে দেওয়ার অফার দেয়। ত্রুটি ভেদে দাবি করে দেড় হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। মানুষ নিরুপায় হয়ে সরকারি ফি’র থেকেও দুই-তিন গুণ বেশি টাকা ঘুষ দিয়ে পাসপোর্ট গ্ৰহণ করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অফিসের বাইরের এক দালাল সদস্য বলেন, আমরা বেকার তাই পেটের তাগিদে দালালি করি। একটা পাসপোর্ট করতে যে টাকা চুক্তি করি তার সিংহভাগ দিতে হয় অফিসের স্যারদের। আমরা নামমাত্র ৫শ থেকে ১ হাজার টাকা পাই। কাগজপত্রের ত্রুটি ভেদে স্যারদের সঙ্গে কথা বলে পার্টির কাছ থেকে টাকা নেই। ফাইল জমা করার পরপরই টাকা পৌঁছে দিতে হয়, একটু এদিক সেদিক হলে অফিসে ঢোকা বন্ধ করে দেয়। তাই আমরা যারা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত কেউই বেইমানি করি না।
এ সকল অভিযোগ সহকারী পরিচালক নাহিদ নেওয়াজ, উচ্চমান সহকারী অমিত কুমার পাল ও সহকারী হিসাব রক্ষক বাপ্পু মিত্র অস্বীকার করেন।
সহকারী পরিচালক নাহিদ নেওয়াজ বলেন, আমার অজান্তে ছোট খাটো ভুল ত্রুটি ও টাকা লেনদেনের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে বড় ধরনের কোনো অনিয়ম আমার অফিসে হচ্ছে না।
জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আরিফ-উজ- জামান বলেন, পাসপোর্ট অফিসের বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। তদন্তে সত্যতা মিললে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ করা হবে।
এদিকে বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে এবং সেবা নিতে আসা সাধারণ জনগণের হয়রানি ও ভোগান্তি লাঘবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন গোপালগঞ্জের দূরদূরান্ত থেকে পাসপোর্ট করতে আসা সাধারণ জনগণ ও সচেতন মহল।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© All rights reserved © 2022 daily Ajker Songram
Customized By Shakil IT Park