
মোঃ আরাফাত হোসেন:
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলগুলোর রাজপথের সাংগঠনিক শক্তিতে ধস নামার অন্যতম কারণ হল পরীক্ষিত ও জনপ্রিয় নেতাদের দূরে সরিয়ে রাখা। তাতে করে অনেকসময় বড় খেসারত দিতে হয়। উপমহাদেশ তথা বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমন ইতিহাস আছে। অতীত ঘাটলে এমন অসংখ্য উদাহরণ পাওয়া যাবে। এখন সেই একই প্রক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে এদেশের জনপ্রিয় ও বৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র ঢাকা মহানগরের রাজনীতিতে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে বর্তমানে রাজধানী ঢাকার রাজনীতিতে তৃণমূল পর্যায়ে যাঁদের শক্ত অবস্থান ও প্রভাব রয়েছে তাঁদের একে একে মাইনাস কিংবা কোণঠাসা করার অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া চলছে। এতে দলটির রাজপথের আন্দোলন ও সাংগঠনিক শক্তিতে সৃষ্টি হচ্ছে বড় ধরনের ঝুঁকি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকার সাবেক মেয়র মির্জা আব্বাসের মতো বর্ষীয়ান নেতাকে যখন গুপ্ত বাহিনীর চরম কটূক্তির মুখোমুখি হতে হয় তখন দলীয় হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে কোনও জোরালো প্রতিবাদ করতে দেখা যায়নি। তাছাড়া ঢাকার আরেক সাবেক মেয়র, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুর এবং ঢাকা-৪ ও ৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির বানিজ্য বিষয়ক সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমেদের প্রয়াণ এবং যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সভাপতি ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরবের মতো শক্ত সংগঠকদের অনুপস্থিতি ইতিমধ্যে ঢাকা বিএনপিতে গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে।
এই ধারাবাহিকতায় যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সভাপতি ও সাধারণ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণআন্দোলনের অকুতোভয় নেতৃত্ব সাইফুল আলম নীরবের মতো রাজপথের সক্রিয় নেতাদের রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয় বা মাইনাস করার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজধানী ঢাকার প্রতিটি এলাকাসহ ঢাকা-১২ আসনের প্রতিটি ইউনিটে শক্ত সাংগঠনিক নেতৃত্বকে রাজনৈতিকভাবে দূরে ঠেলে দেওয়ায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির রাজনীতিতে ভারসাম্যহীনতা দিনদিন স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
৯০’র স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী গণ-অভ্যুত্থান, ৯৬’র স্বৈরাচার হাসিনা বিরোধী গণআন্দোলন, ১/১১ কালো সরকার বিরোধী গণআন্দোলন ও দীর্ঘ দেড়যুগ ফ্যাসিবাদী হাসিনা বিরোধী গণআন্দোলনে অবিভক্ত ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও যুবদলের সাবেক এই সভাপতি সাইফুল আলম নীরবের ছিল অসীম সাহসী ভূমিকা। ফ্যাসিবাদী সরকার তাঁর বিরুদ্ধে ৪৫৪টি মিথ্যা, বানোয়াট ও প্রহসনের মামলা দিয়েও তাঁর পথচলাকে রুদ্ধ করতে পারেনি বরং তিনি অকুতোভয়ে রাজপথে অগ্নিমশাল প্রজ্জ্বলিত করেছেন, লড়াই-সংগ্রামে পিছপা না হয়ে বরং বুক উঁচু করে রাজপথের মিছিলে স্লোগানে বর্জনিনাদ কন্ঠে সোচ্চার থেকেছেন।
তৃণমূলের নেতকর্মীদের স্পষ্ট বার্তা সিন্ডিকেট, গোষ্ঠীস্বার্থ ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে প্রধান বিবেচ্য করলে চরম দুঃসময়ে পুরো দলকেই তার মাশুল গুনতে হবে। কেন্দ্রকে ঘিরে রাখা চাটুকার ও মীরজাফরদের ইশারায় যদি মাঠের রাজপথ কাঁপানো নেতাদের দূরে ঠেলে দেওয়া হয়, তবে আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে আবারও ভয়াবহ ধাক্কা আসবে। কর্মীদের আশঙ্কা, সংকটকাল বা জটিল সময় এলে ষড়যন্ত্রকারীরা লেজ গুটিয়ে বিদেশে পাড়ি জমালেও রক্ত দেওয়া, জেলখাটা কিংবা নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হবে কেবল তৃণমূলের ত্যাগী কর্মীদেরই।
তাই ঢাকার রাজনীতিতে বিএনপির ঐতিহ্যগত সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ ও অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে অবিলম্বে ব্যক্তিগত ইগো ভুলে বাস্তবসম্মত ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দলীয় নেতাকর্মীরা।