
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ভাইয়ের মৃত্যুর পর রেখে যাওয়া সম্পত্তির লোভে ৭ বছরের ভাতিজীকে বিয়ে করেছিলেন চাচা। বিয়ের দশ বছরের মাথায় চাচার সাথে সংসার না করে অন্যত্র বিয়ে করেন ভাতিজী। ঘটনার প্রায় ৩৬ বছর পার হলেও বাবার বাড়ি যেতে পারেননি ভুক্তভোগী ফাতেমা বিবি (৭৫)।
ভুক্তভোগী ফাতেমা শরীয়তপুর সদর উপজেলার চর চিকন্দি (৪-নং ওয়ার্ড) গ্রামের মৃত শামসুজ্জামান খানের মেয়ে। ও অভিযুক্ত চাচা মাহাবুব রশিদ ওরফে হামিদ খান একই এলাকার মৃত মুনসুর আহম্মেদ খানের ছেলে। শামসুজ্জামান খান ও হামিদ খান আপন চাচাতো ভাই বলে জানান ভুক্তভোগী ফাতেমা।
জানা গেছে, ফাতেমা বিবিকে ৬ বছরের রেখে মারা যায় তার বাবা শামসুজ্জামান। এরপর ফাতেমাকে লালন-পালনের জন্য পাশের গ্রামে এক আত্মীয়র কাছে রেখে অন্যত্র বিয়ে করেন তার মা। ঘটনার কিছুদিন পরই ফাতেমা বিবির চাচা হামিদ খান তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। ফাতেমা বিবির বাবা শামসুজ্জামানের রেখে যাওয়া কোটি টাকার সম্পত্তি দখলের লোভে কাজি ডেকে স্বর্যা কাবিন করেন ফাতেমা বিবিকে। তখন ফাতেমা বিবির বয়স ছিলো মাত্র ৭ বছর।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বুঝ হওয়ার পর থেকে তিনি দেখেন তার ভরণপোষণের দায়িত্ব নিচ্ছেন না তার চাচা (তখনকার স্বামী) হামিদ খান। পরে সেই স্বামীকে তালাক দিয়ে পশ্চিম আটপাড়ার এমএ কাদির মিয়া নামে একজনকে বিয়ে করে ৩৬ বছর ধরে সংসার করছেন তিনি। ফাতেমা অভিযোগ করে বলেন, তার চাচা হামিদ খানকে তালাক দেয়ার পর তার বাবা মৃত শামসুজ্জামানের কবরের উপর বাথরুম নির্মাণ করেছেন। প্রাণ ভয়ে ৩৬ বছর ধরে দেখেন না বাপের ভিটা।
ফাতেমা বিবির বাবা শামসুজ্জামানের কবরে বাথরুম নির্মাণ ও জমি দখলের বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় মনির হোসেন খান জানান, হামিদ খান স্থানীয় কয়েকজনকে সাথে নিয়ে একটি দল তৈরি করেছেন। সে একাধিক ব্যাক্তির জমি দখল করেছে বলে প্রমাণ রয়েছে এলাকায়। তার বিরুদ্ধে গেলেই মারধর ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে। যেহেতু ফাতেমা বিবির কোনো ভাইবোন নাই, তাই এসব অন্যায় দেখার মতোও কেউ নাই।
স্থানীয় মোশাররফ খানের স্ত্রী শিখা বেগম (৪০) বলেন, ফাতেমা বিবির বাবা কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি রেখে গেছেন। তার ভাইবোন না থাকায় সে সম্পত্তি দখল করে আছেম হামিদ খান। হামিদ খান এলাকায় অনেকের জমি দখল করেছে এমন বলেও জানান তিনি।
তবে হামিদ খানের দাবি সে তার বিবাহিত স্ত্রী ছিলো। তাকে রেখে পালিয়ে বিয়ে করেছেন ফাতেমা। কবরের উপর বাথরুম নির্মাণ করা হয়নি বলেও দাবি তার। হামিদ খানের দাবি বাথরুম থেকে কবরের দুরত্ব কমপক্ষে ৪০ ফিট। তার বিরুদ্ধে করা সকল অভিযোগও মিথ্যা বলে দাবি করেন হামিদ খান। ফাতেমা বিবির পক্ষে একটি দল কাজ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
কবরের উপর বাথরুম নির্মাণ ও দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে ভাতিজীকে বাড়ি ছাড়া করা বিষয়ে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল আহমেদ বলেন, এমন একটা অভিযোগ শুনেছিলাম। অভিযোগ চিকন্দি ফাঁড়িতে আছে। তদন্ত চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।