
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁও শহরে শীঘ্রই শুরু হতে যাচ্ছে “পুনাক শিল্পপণ্য বাণিজ্য মেলা -২০২৫”। তবে এই মেলা ঘিরে ইতোমধ্যেই জনসাধারণের মাঝে নানা ধরনের প্রশ্ন, উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
বিশেষ করে আগামী ২৪ এপ্রিল ২০২৫ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২০২৩ সালের অনার্স ৩য় বর্ষের পরীক্ষা, যা ঠাকুরগাঁও পৌরসভাধীন দুটি কেন্দ্র—ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজ ও সরকারি মহিলা কলেজে অনুষ্ঠিত হবে। অথচ ঠিক এই দুই কেন্দ্রের মাঝেই মেলার আয়োজন করা হয়েছে, যার ফলে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে যাতায়াতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হবে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।
শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, মেলা আয়োজিত হওয়া স্থানটি মূলত একটি বহুমুখী ব্যবহারযোগ্য মাঠ, যেখানে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সপ্তাহের শুক্র ও শনিবার ‘কৃষকের বাজার’ বসে থাকে। এই বাজার বন্ধ হয়ে গেলে নিম্ন আয়ের মানুষদের স্বল্পমূল্যে শাকসবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য কিনতে সমস্যায় পড়তে হবে। অনেকেই মনে করছেন, এতে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন স্থানীয় কৃষক ও খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ।
এছাড়া মেলার নিরাপত্তা ও সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির নামে চারপাশ ঘিরে দেয়া বাউন্ডারি দেওয়ায় বাধাগ্ৰস্থ হয়ে যাবে আশপাশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানের প্রবেশাধিকার। মেলার মধ্যে থাকা ঠাকুরগাঁও অডিটোরিয়াম ও প্রেস ক্লাবের অনুষ্ঠানাদিতে ব্যাঘাত সৃষ্টি হবে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রেস কনফারেন্স কিংবা সভা-সেমিনার আয়োজনে বাঁধার মুখে পড়বে সংশ্লিষ্টরা।
তবে সবচেয়ে বিতর্কিত ঘটনা হলো শহরের গৌরব ও স্মৃতিচিহ্ন শহীদ স্মৃতি স্তম্ভের ওপর মেলা কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ। অভিযোগ উঠেছে, মেলার জায়গা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে স্তম্ভটির ভিত্তিপ্রস্তর ভেঙে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনাকে অনেকে শহীদের প্রতি চরম অবমাননা ও ইতিহাস বিকৃতি হিসেবে দেখছেন। স্থানীয় নাগরিক সমাজের একাংশ ইতোমধ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদ জানিয়ে মেলার স্থান পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন।
স্থানীয় প্রশাসন এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না দিলেও, জনমনে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি দ্রুত সামাল দিতে না পারলে আয়োজন কমিটি ও জেলা প্রশাসন জনরোষের মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।
সাধারণ মানুষ এখন প্রশ্ন তুলছেন—উন্নয়ন ও উৎসব উদযাপনের নামে যদি শিক্ষার্থী, কৃষক ও শহীদদের স্মৃতিকে অবজ্ঞা করা হয়, তবে তার দায়ভার কে নেবে?
এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে সচেতন নাগরিক সমাজ।