
ফারুক আহমেদ
বিশেষ প্রতিনিধি
বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের রামপাশা গ্রামের মৃত আসলাম আলীর ছেলে হাবিবুর রহমান গত বুধবার (৭ মে) বাদী হয়ে সিলেটের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালতে মামলাটি করেন। মামলায় ১০৫ জনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি আরও ৩ শতাধিক ব্যক্তিকে অজ্ঞাতনামা অভিযুক্ত করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী হাসান পাটোয়ারী রিপন বলেন, আগামী সাতদিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য বিশ্বনাথ থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলার অন্যতম অভিযুক্তরা হলেন: প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী, সিলেট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী, বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এস এম নুনু মিয়া, বিশ্বনাথ পৌরসভার সাবেক মেয়র মুহিবুর রহমান, বিশ্বনাথ থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) চান মিয়া, উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনজ কান্তি, আব্দুল আলিম, নজরুল ইসলাম, দেব দুলাল, এনাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহ আসাদুজ্জামান আসাদ, সহ-সভাপতি ও দেওকলস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম মতছিন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে ১৭ এপ্রিলে নিখোঁজ হন এম ইলিয়াস আলী। এরপর ২৩ এপ্রিল বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল বের করেন। মিছিলটি বাসিয়া ব্রিজের উত্তরপাশে রামপাশা রোডে আসামাত্র শফিকুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে মিছিলে হামলা করা হয়।
পুলিশ ও হামলাকারীদের গুলিতে হাবিবুর রহমানের ভাতিজাসহ মিছিলকারীদের অনেকেই গুলিবিদ্ধ ও আহত হন। এরপর আহতরা সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মৌলভীবাজার জেনারেল হাসপাতাল ও বিভিন্ন স্থানে গিয়ে চিকিৎসা নেন। দীর্ঘদিন মামলার সুযোগ না পেয়ে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বর্তমানে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হওয়ায় আদালতে মামলাটি করেন হাবিবুর।