
নিজস্ব প্রতিনিধি :
মো. গোলাম মোস্তফা
পাবনার মানুষের সকালের এক গ্লাস দুধ আর পুষ্টির নিশ্চয়তা দিচ্ছে না—বরং নীরব বিষের শঙ্কা বাড়াচ্ছে। বাজারে বিক্রি হওয়া তরল দুধে কাপড় ধোয়ার ক্ষতিকর ডিটারজেন্ট পাউডারের উপস্থিতি মিলেছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ল্যাব পরীক্ষায়। রিপোর্ট প্রকাশের পর জেলাজুড়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
গত ৪ ডিসেম্বর পাবনার লাইব্রেরি বাজার এলাকা থেকে বিভিন্ন ডেইরি প্রতিষ্ঠানের দুধের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা চালায় কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষায় আটঘরিয়ার বাঈখোলায় অবস্থিত ‘ফারুক ডেইরি ফার্ম’-এর দুধে সরাসরি ডিটারজেন্টের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। অন্য প্রতিষ্ঠানের দুধে আপাতত ক্ষতিকর উপাদান না মিললেও ভেজাল নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো. সিরাজুল ইসলাম ফারুক বলেন, “প্রতিদিন ১৯–২০ হাজার লিটার দুধ সরবরাহ করি। বাইরের খামার থেকেও দুধ আনা হয়। সতর্কতা থাকে তবু বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।” তবে জনমনে প্রশ্ন—ডিটারজেন্ট কি ভুলে পড়ে, নাকি মুনাফার লোভে ইচ্ছাকৃত?
পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক বিএম শাফিকুল হাসান জুয়েল জানান, ডিটারজেন্ট মিশ্রিত দুধ লিভার ও পাকস্থলীতে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে; ডায়রিয়া, আমাশয়সহ দীর্ঘমেয়াদি জটিলতার ঝুঁকি বাড়ে।
কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সাধারণ সম্পাদক এস এম মাহবুব আলম অভিযোগ করেন, কিছু বড় প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের দুধ সংগ্রহের পাশাপাশি ভেজালে সরাসরি জড়িত।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পাবনার কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসাইন জানান, ল্যাব রিপোর্ট জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে তলব করা হয়েছে এবং জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে মৌখিক সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—মৌখিক সতর্কতায় কি থামবে দুধে ডিটারজেন্ট?
শিশু, বৃদ্ধ ও রোগীর খাদ্য নিয়ে এমন কারবারে প্রয়োজন কঠোর শাস্তি, নিয়মিত তদারকি ও প্রকাশ্য জবাবদিহি—নইলে ‘পুষ্টির দুধ’ নামেই চলবে বিষের ব্যবসা।