
মোঃ মাসুদ বিপ্লব ঠাকুরগাঁও
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ঠাকুরগাঁও জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে দাখিলকৃত মনোনয়নপত্রের যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়।
যাচাই-বাছাই শেষে ঠাকুরগাঁও–১ আসনে দাখিল করা মোট ৩টি মনোনয়নপত্রকে সঠিক ও বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৈধ ঘোষিত প্রার্থীরা হলেন—
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রার্থী দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর,
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোঃ দেলোয়ার হোসেন,
এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জনাব মোঃ খাদেমুল ইসলাম।
এদিকে ঠাকুরগাঁও–২ আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে এর মধ্যে ৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। অপর ২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে সংশোধনযোগ্য ত্রুটি থাকায় তাদের বিষয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ইসরাত ফারজানা এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরো জানা যায়, স্থগিত রাখা দুই প্রার্থীর মধ্যে মোহাম্মদ রেজাউল করিম (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ)-এর মনোনয়নপত্রে ভোটার নম্বর ও ক্রমিক নম্বর ভুল ছিল এবং প্রস্তাবকারীর স্বাক্ষরের স্থানে তিনি নিজেই স্বাক্ষর করেছেন। অপরদিকে শাহাব উদ্দীন আহম্মেদ (বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি)-এর অঙ্গীকারনামায় ৩০০ টাকার স্ট্যাম্প সংযুক্ত না থাকায় তার মনোনয়নপত্রও সংশোধনযোগ্য হিসেবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দুই প্রার্থী ত্রুটিগুলো সংশোধন করে পুনরায় মনোনয়নপত্র দাখিল করলে যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বিষয়ে পরবর্তীতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে বলে জানান নির্বাচন কর্মকর্তারা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ওয়ালিউল্লাহ, অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ সাঈম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোদাদাদ আলীসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা।
অন্যদিকে ঠাকুরগাঁও–৩ আসনে মোট ১০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। তারা হলেন—
মোঃ মিজানুর রহমান (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী),
মোঃ মামুনুর রশিদ (গণঅধিকার পরিষদ),
এস. এম. খলিলুর রহমান সরকার (বাংলাদেশ মুসলিম লীগ),
মোঃ জাহিদুর রহমান (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল),
প্রভাত সমীর (বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি),
মোঃ আল আমীন (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ),
কমলাকান্ত রায় (বিএমজেপি),
মোঃ আবুল কালাম আজাদ (বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি)।যাচাই-বাছাই শেষে ১০ জনের মধ্যে ৮ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। অপরদিকে মোঃ হাফিজ উদ্দীন আহম্মেদ (বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি)-এর মনোনয়নপত্রে ত্রুটি পাওয়ায় তা সংশোধনের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে নিজ আসনের এক পার্সেন্ট ভোটারের সাক্ষর সম্বলিত সঠিক না থাকায় আশা মনির প্রার্থীতা বাতিল ঘোষণা করেন জেলা রিটার্নিং অফিসার।
উল্লেখ্য, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।