
বিশেষ প্রতিনিধি:
রাজধানীর উত্তরখান এলাকায় গৃহকর্মীর ছদ্মনামে কাজ নিয়ে মাত্র তিন দিনের মাথায় গৃহকর্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে এক নারীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করেছে পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর)।
ঘটনাটি ঘটে চলতি মাসের ১৪ ফেব্রুয়ারি। ‘মারুফা’ নাম ব্যবহার করে এক নারী উত্তরখান এলাকার একটি বাসায় গৃহকর্মীর কাজ নেন। অভিযোগ রয়েছে, কাজ নেওয়ার তৃতীয় দিন ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি গৃহকর্ত্রী আয়েশা ও তার স্বামী আনোয়ার হোসেনকে চেতনানাশক ওষুধ প্রয়োগে অজ্ঞান করে বাসা থেকে ১১ ভরি ১০ আনা স্বর্ণালংকার ও নগদ এক লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যান। পরে গৃহকর্ত্রী আয়েশার মৃত্যু হয় এবং গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আনোয়ার হোসেনকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় ভিকটিমের স্বজন মো. মনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় ১৯ ফেব্রুয়ারি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-২৭, ধারা ৩৮১/৩২৮/৩০২ পেনাল কোড। পরবর্তীতে মামলাটি অধিগ্রহণ করে পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর)। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. জাব্বারুল ইসলামকে।
তদন্তের শুরু থেকেই ছায়া তদন্ত চালায় পিবিআই। অভিযুক্ত নারী ছদ্মনাম ব্যবহার করায়, তার কোনো ছবি বা রেফারেন্স না থাকায় তাকে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। পরে পিবিআই পূর্বে তদন্তকৃত অনুরূপ মামলার আসামিদের তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করে ভিকটিমের পরিবারকে দেখায়। সেখান থেকেই ‘মারুফা’কে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। তদন্তে তার প্রকৃত নাম বিলকিছ বেগম বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।
মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ১৯ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টা ১৫ মিনিটে গাজীপুর চৌরাস্তা সংলগ্ন বঙ্গগলি আউটপাড়া এলাকা থেকে বিলকিছ বেগমকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে নগদ ৬ হাজার ৩০০ টাকা, একটি ওষুধের খালি পাতা এবং একটি ছোট হাতব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে।
আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে গাজীপুরের বাসন থানার বৌ-বাজার এলাকা থেকে রবিউর আউয়াল নামের আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।
পরদিন গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হলে বিলকিছ বেগম ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। প্রাথমিক তদন্তে তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় অন্তত পাঁচটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।