
বিশেষ প্রতিনিধি:
যশোরের শার্শা ও বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অপরাধ, চোরাচালান ও প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে আলোচিত নাম ‘গোল্ড শহিদ’। স্থানীয়দের কাছে তিনি এক আতংক। অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন হত্যা, সন্ত্রাস ও চোরাচালান মামলার আসামিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে সীমান্ত এলাকায় গড়ে তুলেছেন নিজস্ব শক্তিশালী সিন্ডিকেট।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, যশোর জেলার শার্শা উপজেলার ইউনুস আলী (পিতা- তাহের আলী) হত্যা মামলায় আদালতের রায়ে ৩২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামী। শার্শা থানার মামলা নং- ৯২ (২৩/১০/১৯৯৭), জিআর মামলা নং- ৪৭৪/১৯৯৭ এবং দায়রা মামলা নং- ২৪৮/২০০৩ এর ৩ নম্বর আসামী ছিলেন তিনি। যশোরের স্পেশাল জজ (জেলা জজ) ও বিশেষ দায়রা জজ আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করেন ২১/০৯/২০১৬ সালে। তবে রায়ের সময় তিনি পলাতক ছিলেন এবং অদ্যাবধি আত্মগোপনে রয়েছেন।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পলাতক এই সাজাপ্রাপ্ত আসামীকে আশ্রয় ও নিরাপত্তা দিয়ে আসছেন কথিত প্রভাবশালী ‘গোল্ড শহিদ’। সীমান্তজুড়ে তার নিয়ন্ত্রিত চক্রের মাধ্যমে হত্যা মামলার আসামীসহ বিভিন্ন অপরাধীদের নিরাপদ অবস্থান নিশ্চিত করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, গোল্ড শহিদের ছত্রচ্ছায়ায় গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায় না।
সীমান্ত এলাকায় সোনা চোরাচালান, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে সচেতন মহল বলছে, দীর্ঘদিন ধরে পলাতক সাজাপ্রাপ্ত আসামীদের গ্রেফতার এবং তাদের আশ্রয়দাতাদের আইনের আওতায় না আনলে সীমান্ত অঞ্চলে অপরাধ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তারা দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।