
উপজেলা প্রতিনিধি:
সুখের আসায় স্বামী সংসার ফেলে পরকীয়া প্রেমিককে বিয়ে করার পর শশুর বাড়ি থেকে কনিকা (২০) নামে এক তরুণীর ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দ্বিতীয় স্বামী (প্রেমিক) খোঁজখবর না রাখায় আত্মহত্যা করতে পারে বলে ধারণা স্থানীয়দের।
সোমবার (১-জুন) দুপুরে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার মূলনা ইউনিয়নের বোয়ালিয়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত কনিকা একই ইউনিয়নের রায়ের কান্দি গ্রামের মোঃ রেজ্জেক মাদবরের মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত কনিকাকে আনুমানিক দেড় বছর আগে জাজিরা পৌরসভার আড়াচন্ডি এলাকায় পারিবারিক ভাবে বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের পর থেকেই কনিকা তার পরিবারকে জানায় তার স্বামী পছন্দ হয়নি। তার সাথে বোয়ালিয়া গ্রামের হামেদ মোল্লার ছেলে সফিউল মোল্লা (২৭) নামে একজনের সম্পর্ক রয়েছে। একপর্যায়ে পরিবারকে বাধ্য করে প্রথম স্বামীকে ডিভোর্স দেয় নিহত কনিকা।
তবে স্বামীকে ডিভোর্স দেয়ার পরপরই কনিকাকে গ্রহণ করতে অস্বীকার করে সফিউল মোল্লা। চার মাস আগে বিয়ের দাবীতে সফিউলদের বাড়িতে অবস্থান নিলে সফিউলের বাবা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে ছেলের বউকে স্বীকৃতি দেন। এদিকে ঘটনার পর কনিকা দ্বিতীয় স্বামীর বাড়িতে উঠলে বাড়ি থেকে চলে যান দ্বিতীয় স্বামী (প্রেমিক) সফিউল। সবশেষ যোগাযোগ না করেই দুদিন আগে মালেশিয়া চলে যায় সফিউল। এ ঘটনায় ক্ষুদ্ধ হয়ে এমনটা করতে পারে বলে ধারণা অনেকের।
নিহত কনিকার মা খাদিজা বেগম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমি রান্না করতে এসে শুনি আমার মেয়ে মারা গেছে। আমার মেয়ে এই বাড়িতে আসার পর সবাই মানলেও ওর শাশুড়ী মানেনি। ওর শাশুড়ী বলেছে, ওরে মার্ডার করবে তাও ছেলেবউ হিসেবে স্বীকৃতি দিবে না।
কনিকার শশুর জানান, চার মাস আগে আমাদের বাড়িতে এই মেয়ে আসে। আমরা ছেলেবউ হিসেবে মেনে নিয়েছি তবে যেদিন থেকে বউ বাড়িতে এনেছি সেদিন থেকেই আমার ছেলে বাড়িতে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। সবশেষ আজকে দুপুরে বাজার থেকে বাড়িতে আসার পর আমার ছোট ছেলে জাহিদুল ইসলাম মুন্না (১৩) আমাকে জানায়, কনিকা ফ্যানের সাথে ঝুলে মারা গেছে।
লাশ উদ্ধারের বিষয়ে জাজিরা থানার ওসি তদন্ত আব্দুস সালাম বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশটি ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করি। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।