
শাহেদ আহমেদ,
সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নকে ঘিরে থাকা ১৫ নম্বর পোল্ডারের উপকূল রক্ষা বাঁধ থেকে অবৈধভাবে স্থাপিত ১২টি ‘নাইনটি’ অপসারণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। চিংড়িঘেরে নদীর লবণাক্ত পানি প্রবেশ করাতে বাঁধ কেটে পাইপ বসিয়ে এসব ‘নাইনটি’ স্থাপন করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার সকাল থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জাহান কনকের নেতৃত্বে গাবুরা ইউনিয়নের চকবারা, ডুমুরিয়া, চাঁদনীমুখা ও ৯ নম্বর সোরা এলাকার বাঁধে অভিযান পরিচালনা করে এসব ‘নাইনটি’ অপসারণ করা হয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সম্প্রতি উপকূল রক্ষা বাঁধের কংক্রিট ব্লক সরিয়ে ও মাটি কেটে পাইপ স্থাপনের মাধ্যমে চিংড়িঘেরে নদীর লবণাক্ত পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করেন। এতে নির্মাণাধীন বাঁধের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়ে।
অভিযানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন, শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী, পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান সরদারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান সরদার বলেন, গাবুরার চারপাশে টেকসই উপকূল রক্ষা বাঁধ নির্মাণকাজ এখনো চলমান। এর মধ্যেই কেউ কেউ নৌকা ভেড়ানোর জন্য খুঁটি স্থাপন করছেন, আবার কয়েকজন নির্মাণাধীন বাঁধ কেটে পাইপ বসিয়ে ‘নাইনটি’ তৈরি করেছেন। বাঁধের ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আগেই স্বেচ্ছায় এগুলো অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নির্দেশনা অমান্য করায় প্রশাসনের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে সেগুলো অপসারণ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কনক বলেন, প্রায় ১ হাজার ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে গাবুরা ইউনিয়নকে ঘিরে টেকসই উপকূল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও পুনর্বাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। এ ধরনের অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে বাঁধের ক্ষতি করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। মঙ্গলবারের অভিযানে ১২টি ‘নাইনটি’ অপসারণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে কেউ বাঁধ কেটে বা অন্য কোনোভাবে ক্ষতিসাধনের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছবির ক্যাপশন:
শ্যামনগরের গাবুরা ইউনিয়নে উপকূল রক্ষা বাঁধে অবৈধভাবে স্থাপিত ‘নাইনটি’ অপসারণ করছেন শ্রমিকরা।