
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালকে ৬০০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার সন্ধ্যায় ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, “আপনাদের জন্য একটি সুখবর দিতে চাই। আমাদের ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালটি ৬০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। খুব শিগগিরই ৬০০ শয্যার হাসপাতালের জন্য চিকিৎসক, টেকনিশিয়ান, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, ওষুধ এবং জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ২৫০ শয্যার এ হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬০০ রোগী ভর্তি থাকেন। সভার দিনও হাসপাতালে প্রায় ৬৩০ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। ফলে সীমিত অবকাঠামো ও জনবল নিয়ে চিকিৎসাসেবা দিতে চিকিৎসক ও কর্মীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তিনি জানান, হাসপাতালে অনুমোদিত ৮৪ জন চিকিৎসকের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৪৫ জন। এছাড়া প্রায় ৩৩ জন মেডিকেল অফিসারের পদ শূন্য রয়েছে, যা দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, হাসপাতালের অন্যতম বড় সমস্যা মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। এ জন্য প্রয়োজনীয় বর্জ্য অপসারণ যন্ত্র (ইনসিনারেটর) নেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যন্ত্রটির মূল্য প্রায় ৮ থেকে ৯ লাখ টাকা বলে জানালে তিনি ২-১ দিনের মধ্যেই এটি সরবরাহের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতাল চত্বরে গরু-ছাগলের অবাধ বিচরণও একটি সমস্যা। এ সমস্যা সমাধানে ৩০ জন আনসার সদস্য নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালকে একটি আধুনিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে আইসিইউ, এমআরআই মেশিনসহ প্রয়োজনীয় আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, খুব শিগগিরই স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে (স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত) ঠাকুরগাঁওয়ে নিয়ে এসে হাসপাতালের সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণকাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে বলে তিনি জানান।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলী, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফিরোজ জামান জুয়েল, সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুর রহমান, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং অন্যান্য চিকিৎসক।