
মনিরুজ্জামান মিলন পাটোয়ারী,
নীলফামারী
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও ইউনিয়ন সুপারভাইজার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণের অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগে যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করে পছন্দের ব্যক্তিদের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের প্রতিবাদে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনার দাবিতে ২৩ আগস্ট ২০২৬, রবিবার সকাল ১১টায় জলঢাকা জিরো পয়েন্টে মোড়ে মানববন্ধন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে ‘সচেতন জলঢাকাবাসী’। আয়োজকদের দাবি, ফ্যামিলি কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্যতা, মেধা ও স্বচ্ছতার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়ার কথা। কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এসব বিষয় যথাযথ ভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়োগের জন্য আবেদন, বাছাই ও সাক্ষাৎকারের পর চূড়ান্ত ভাবে কারা নির্বাচিত হয়েছেন এবং কী ধরনের যোগ্যতার ভিত্তিতে তাদের নির্বাচন করা হয়েছে, এ বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নানা আলোচনা ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগকারীদের আরও দাবি, সরকারি কোনো প্রকল্পে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফ্যামিলি কার্ডের জন্য সঠিক উপকারভোগী নির্বাচন ও তথ্য সংগ্রহে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নিরপেক্ষতা, দক্ষতা ও সততা থাকা জরুরি। সেখানে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব হয়ে থাকলে এর প্রভাব সরাসরি প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচনের ওপর পড়তে পারে। এদিকে, নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ, নির্বাচিতদের তালিকা ও তাদের যোগ্যতা যাচাই এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। সচেতন জলঢাকাবাসী’র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে যোগ্য ও বঞ্চিত প্রার্থীদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ সম্পন্ন করার দাবি জানানো হয়েছে। তবে নিয়োগে অনিয়ম, দলীয়করণ কিংবা স্বজন প্রীতির অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের গাফিলতি আছে বলে মনে হচ্ছে। অভিযোগ গুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এখন সংশ্লিষ্টদের প্রধান দাবি। মানববন্ধন কর্মসূচিতে সচেতন নাগরিক, ভুক্তভোগী প্রার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।