
মোঃ দেলোয়ার হোসেন শিমুল,
নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর পোরশায় ভাড়া বাসার ছাদে ভেজা কাপড় শুকাতে গিয়ে বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আল মামুন (২২) নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার বড়গ্রাম শাহুপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত আল মামুন বড়গ্রাম শাহুপাড়া এলাকার মোঃ মোজাফফর হোসেনের ছেলে। তিনি তার বাবার সঙ্গে পোরশা উপজেলার তাঁতিপাড়া মোড়ে হোটেল ও মিষ্টির ব্যবসা পরিচালনা করতেন। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবারও সকালে তিনি বাবার সঙ্গে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কাজ করছিলেন।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দোকানের কাজ শেষ করে বাসায় যাওয়ার কথা বলে সেখান থেকে বের হন আল মামুন। পরে দুপুর ১২টার দিকে তিনি বড়গ্রাম শাহুপাড়ায় তাদের ভাড়া বাসায় যান। বাসায় যাওয়ার পর একপর্যায়ে তিনি ভেজা কাপড় শুকাতে দেওয়ার জন্য ছাদে ওঠেন।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসার ছাদে থাকা একটি বৈদ্যুতিক তারে ছিদ্র ছিল। ভেজা কাপড় শুকাতে দেওয়ার সময় কাপড়টি ওই বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এলে আল মামুন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। মুহূর্তের মধ্যে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঘটনায় বিকট শব্দ হয়। একই সঙ্গে বৈদ্যুতিক তারে আগুন ধরে যায়। এতে আল মামুন গুরুতরভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছাদ থেকে নিচে পড়ে যান।
বিকট শব্দ ও চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত পোরশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আল মামুনকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঘটনায় আল মামুনের ঠোঁটের নিচের অংশ ঝলসে যায়। এছাড়া তার বাম হাতের কনুইয়ের ওপরের অংশ পুড়ে যায়। হঠাৎ এমন দুর্ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
ঘটনার পর নিহতের বাবা মোঃ মোজাফফর হোসেন পোরশা থানায় গিয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নেয়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং স্বজনদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের জন্য পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পোরশা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউর রহমান জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক যুবকের মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করা হয়েছে।
আল মামুনের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে তার পরিবার, স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। পরিবারের একমাত্র স্বজনদের কাছে তার এমন আকস্মিক চলে যাওয়া গভীর বেদনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, বৈদ্যুতিক তারে কোনো ধরনের ছিদ্র বা ত্রুটি থাকলে তা দ্রুত মেরামত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ভেজা কাপড় বা পানি ব্যবহারের স্থানগুলোর আশপাশে বৈদ্যুতিক সংযোগে ত্রুটি থাকলে তা মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। বৈদ্যুতিক তার ও সংযোগ নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ত্রুটি দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন তারা।