
মোঃ দেলোয়ার হোসেন শিমুল,
নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি,
নওগাঁর নিয়ামতপুরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় ময়েজ উদ্দিন ও তার স্ত্রী শাহনাজ বেগম আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার ভাবিচা ইউনিয়নের ডিমা (দক্ষিণপাড়া) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত ময়েজ উদ্দিনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার মাথায় পাঁচটি সেলাই দেওয়া হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ডিমা মৌজার খতিয়ান নং-১৩০, দাগ নং-১৯৪-এর ২৪ শতাংশ জমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন ময়েজ উদ্দিন। অভিযোগ রয়েছে, হঠাৎ করে প্রতিবেশী মাসুদ রানা, আশরাফ উদ্দিন, বুলবুল আহমেদ, মোয়াজ্জেম, আব্দুর রহিম ও নুরুল ইসলাম ওই জমি জোরপূর্বক দখলের উদ্দেশ্যে বেড়া দেন।
এ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে ময়েজ উদ্দিন আদালতের শরণাপন্ন হন। এ বিষয়ে করা মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় গত শনিবার বিকেলে প্রতিপক্ষের লোকজন ওই জমি মাপজোক করতে আসেন। এ সময় ময়েজ উদ্দিন তাদের জমি মাপজোক করতে নিষেধ করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তারা দেশীয় অস্ত্র কোদাল, শাবল, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে ময়েজ উদ্দিন ও তার স্ত্রী শাহনাজ বেগমের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
তাদের চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন ওই জমিতে থাকা ১৫টি কলাগাছ, নিমগাছ ও বাঁশ কেটে ফেলে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিজ উদ্দিন বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে এসে দেখি আশরাফ লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট করছেন। শাহনাজ বেগমকে কোদাল দিয়ে কোপ দেওয়া হয়। আর ময়েজ উদ্দিনের মাথায় শাবল দিয়ে আঘাত করেন মাসুদ।”
আহত ময়েজ উদ্দিন বলেন, “জমি নিয়ে তাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। আমি জমি মাপজোক করতে নিষেধ করায় তারা আমার ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে আমি গুরুতর আহত হয়েছি। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছি এবং মাথায় পাঁচটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিচার দাবি করছি।”
ময়েজ উদ্দিনের জামাই হেলাল বলেন, “এই জমি নিয়ে মাসুদ, আশরাফ, রহিম ও মোয়াজ্জেমের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এরই জের ধরে প্রতিপক্ষের লোকজন আমার শ্বশুর ও শাশুড়ির ওপর হামলা চালিয়েছে। মাসুদ মুহুরি জাল দলিল তৈরির জন্য একবার রেজিস্ট্রার অফিস থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।”
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রতিপক্ষের মাসুদ রানা। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। সেখানে কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি। বাগবিতণ্ডা ও শাবল নিয়ে ধস্তাধস্তি হয়েছে।”
এ বিষয়ে নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”