
মনিরুজ্জামান মিলন পাটোয়ারী, নীলফামারী
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার ২নং ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের পল্লি সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান (আরআরএমইপি) প্রকল্পের আওতায় স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় লটারির মাধ্যমে ১০ জন নারী কর্মী নির্বাচন করা হয়েছে। এ নিয়োগকে কেন্দ্র করে ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের আবেদন কারীদের অংশ গ্রহণে উন্মুক্ত লটারি অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদে উপজেলা প্রশাসনের পাঠানো প্রতিনিধি, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য, সংরক্ষিত নারী সদস্য, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সুধী সমাজের প্রতিনিধি ও সুবিধাভোগীদের উপস্থিতিতে এ লটারি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আলহাজ্ব নাহিদুজ্জামান, জলঢাকা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহাজাহান কবির লেলিন, উপজেলা এলজিইডি অফিসের সহকারী মাঠ প্রকৌশলী আরিফ শাহরিয়ার, উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম রতন, ইউপি সচিব ইয়াসমিন রুহি ফারজানা, এলজিইডি অফিসের সুপারভাইজার ফরহাদ হোসেন, নুর আমিন ও কার্যসহকারী নারায়ন চন্দ্র রায়সহ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ এবং সুবিধাভোগী নারী কর্মীরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে পল্লি সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্পের আওতায় ১০ জন নারী কর্মী নিয়োগের বিপরীতে আবেদন জমা পড়ে ১১৩টি। পরে ওয়ার্ড ভিত্তিক আবেদন কারীদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে কর্মী নির্বাচন করা হয়। এতে মোট ১০ জন নারী কর্মী নির্বাচিত হন। জানা যায়, তিন বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত নারী কর্মীরা সপ্তাহে ছয় দিন কাজ করার সুযোগ পাবেন। তাঁদের দৈনিক মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০০ টাকা। এর মধ্যে প্রতিদিন নগদ ২০০ টাকা পাবেন তাঁরা। বাকি ১০০ টাকা জমা থাকবে, যা চাকরির মেয়াদ শেষে লাভসহ মূল টাকা হিসেবে ফেরত দেওয়া হবে। এভাবে প্রকল্পটির মাধ্যমে একদিকে গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে, অন্যদিকে স্থানীয় নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আলহাজ্ব নাহিদুজ্জামান বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের মনোনীত প্রতিনিধি দল সুবিধা ভোগীদের কাছ থেকে আবেদন গ্রহণ ও যাচাই-বাছাই করেছে। পরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সুবিধা ভোগীদের উপস্থিতিতে লটারির মাধ্যমে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নারী কর্মী নির্বাচন করা হয়েছে। আশা রাখি, সরকারের এ বাস্তবমুখী পদক্ষেপ আলোর মুখ দেখবে।ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম মুকুল বলেন, প্রকৌশলী অফিসের কর্মকর্তারা প্রকল্পের আওতায় সুবিধা ভোগীদের আবেদন গ্রহণ করেছেন। এরপর স্বচ্ছতা ও জবাব দিহিতা নিশ্চিত করে উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে নারী কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়োগকে কেন্দ্র করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং কারও কোনো অভিযোগও নেই। প্রকল্প বাস্তবায়নের পুরো কার্যক্রম উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই পরিচালনা করেছেন।