
শাহেদ আহমেদ, সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী এলাকায় পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে ১ কোটি ৩৮ লাখ ৮২ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় হেরোইন ও মাদক তৈরির রাসায়নিক কাঁচামাল জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গত ৩ ও ৫ নভেম্বর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসব অভিযান পরিচালনা করে বিজিবির নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন (১৭ বিজিবি)। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, প্রথম অভিযানটি পরিচালিত হয় গত ৩ নভেম্বর সকালে। এদিন ১৭ বিজিবির অধীন শাখরা বিওপির একটি বিশেষ টহল দল সীমান্তের শাখরা ব্রিজসংলগ্ন বাঁশবাগান এলাকায় তল্লাশি চালায়। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় ‘মার্টিনি ড্রাগস’ লেখা ২০০ মিলিলিটারের পাঁচটি বোতল উদ্ধার করা হয়। বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, বোতলগুলোতে থাকা তরল পদার্থ হেরোইন তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। উদ্ধারকৃত এসব রাসায়নিক কাঁচামালের আনুমানিক বাজারমূল্য ৯৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অন্যদিকে, দ্বিতীয় অভিযানটি পরিচালিত হয় ৫ নভেম্বর ভোরে। একই বিওপির টহল দল কুলিয়া রোডসংলগ্ন ঋষিপাড়া বড় বাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২ কেজি ৬৬ গ্রাম ভারতীয় হেরোইন উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত হেরোইনের আনুমানিক বাজারমূল্য ৪১ লাখ ৩২ হাজার টাকা। তবে বিজিবির টহল দলের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাচালানকারীরা পালিয়ে যাওয়ায় এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। বিজিবি জানায়, উদ্ধারকৃত পদার্থগুলো পরীক্ষার জন্য খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। সেখানে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় সেগুলোতে মাদক ও মাদক তৈরিতে ব্যবহৃত নিষিদ্ধ রাসায়নিক উপাদানের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। দুটি অভিযানে জব্দকৃত মাদক ও রাসায়নিক কাঁচামালের সর্বমোট আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৩৮ লাখ ৮২ হাজার টাকা। এ বিষয়ে ১৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার আবু সহল আব্দুল্লাহ বলেন, সীমান্ত দিয়ে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। জব্দকৃত উপাদানগুলো পরীক্ষার মাধ্যমে নিষিদ্ধ মাদক ও মাদক তৈরির রাসায়নিক উপাদান হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি আরও বলেন, সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।