
মোঃ হেলাল উদ্দিন, স্টাফ রিপোর্টার :
বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতার আন্দোলনে গুলিতে এক কলেজছাত্র নিহত হওয়ার ঘটনায় গাজীপুরের শ্রীপুরে এক মৃত ব্যক্তির নামে হত্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করছেন ওই মৃত ব্যাক্তির স্বজনরা। গত শুক্রবার (৪ অক্টোবর) শ্রীপুর থানায় এ হত্যা মামলা রুজু হয়েছে।
মৃত আসামির নাম কালা মিয়া, সে শ্রীপুর উপজেলায় কাওরাইদ ইউনিয়ন ধমলাই গ্রামের শহর আলীর ছেলে। তিনি কাওরাইদ ইউনিয়ন শাখার স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য।২৫ সেপ্টেম্বর হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। মামলায় তাকে ১৭০ নম্বর আসামি করা হয়েছে।
রবিবার বিকাল ৪ টায় শ্রীপুর থানার ইনস্পেক্টর তদন্ত শামীম আক্তার জানান, আ হা ম এনামুল বাদী হয়ে ২২৭ জনকে আসামি করে একটি মামলা হয়েছে। তবে এই মামলায় মৃত ব্যাক্তি নাম রয়েছে কি না আমার জানা নেই।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আন্দোলনের সময় নির্বিচারে ছোড়া গুলিতে নিহত হন কলেজছাত্র আসীর ইনতিশারুল হক। তাঁর বাবা আ হা ম এনামুল বাদী হয়ে গত ৪ অক্টোবর শ্রীপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
কালা মিয়ার ছেলে আলমগীর হোসেন বলেন, আমার বাবা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন । তাই বলে মৃত মানুষকে হত্যা মামলার আসামি করতে হবে? বাবা গত ২৫ সেপ্টেম্বর মারা গেছেন। কালা মিয়ার মেয়ে শ্যামলী আক্তার বলেন,ওরা জানতো, আমার বাবা মারা গেছে। তাহলে কেন মৃত ব্যক্তির নামে মামলা দিলো।এটা খুবই দু:খ জনক। কালা মিয়ার স্ত্রী জাহানারা বেগম বলেন,মারা যাওয়া ব্যক্তির নামে হত্যা মামলা করা হয়েছে। এটা কিভাবে সম্ভব। আমি এ মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।
কাওরাইদ ইউপির চেয়ারম্যান আজিজুল হক বলেন, ‘যে মানুষটা মারা গেল, তাঁকে কীভাবে হত্যা মামলায় আসামি করে? এটা পুলিশের দায়িত্বহীনতার প্রমাণ। মৃত ব্যক্তির নামে মামলা রেকর্ড করেছে পুলিশ।তিনি আরো বলেন, এমনকি, আমি অসুস্থ মানুষ। আমার পা ভেঙে গেছে। ভাঙ্গা পা নিয়ে দীর্ঘদিন ঘরে বসে আছি। একই মামলায় আমাকেও আসামি করা হয়েছে।
শ্রীপুর থানার ওসি জয়নাল আবেদীন মণ্ডল বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।
এজাহারে দেখা গেছে, এ মামলায় সাবেক মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকসহ আওয়ামী লীগের ২২৭ জন নেতা–কর্মীর নাম ও অজ্ঞাত ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।