
বাবলু শেখ রাজবাড়ীঃ
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পাক দরবার শরীফের পীর নুরুল হক ওরফে নুরা পাগল (৮৫) এর কবরকে কেন্দ্র করে মানুষের মাঝে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় গোয়ালন্দ উপজেলা ইমাম কমিটি ও তৌহিদী জনতার আয়োজনে উপজেলা মডেল মসজিদের মিলনায়তনে শনিবার (৩০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০ টার সময় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উপজেলা ইমাম কমিটির সভাপতি মাওলানা মোঃ জালাল উদ্দিন প্রামানিকের সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা ইমাম কমিটির সভাপতি মাওলানা মোঃ ইলিয়াস আলী মোল্লা, গোয়ালন্দ সরকারি কামরুল ইসলাম কলেজের সাবেক অধ্যাক্ষ মোহিত হীরা, উপজেলা বিএনপি’র সিনিয়র সহসভাপতি মোঃ আইয়ুব আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আমজাদ হোসেন, পৌর বিএনপি’র সভাপতি মোঃ কাশেম মন্ডল, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সাইদুল ইসলাম, ইদ্রিসিয়া মাদ্রাসার নায়েবে মোহতামিম মুফতি শামসুল হুদা, উপজেলা ইমাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুফতি আবুল হোসাইন, উপজেলা মডেল মসজিদের ইমাম মুফতি আজম আহমাদ, বাজার বড় মসজিদের ইমাম হাফেজ আবু সাইদ সহ উপজেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও তৌহিদী জনতা প্রমুখ।
জেলা ইমাম কমিটির সভাপতি মাওলানা মোঃ ইলিয়াস আলী মোল্লা বলেন, ইমাম মেহেদী দাবীদার নুরার পাগলের মাজার ও কবর নিয়ে আমাদের তিনটি দাবি ছিল, তিনটি দাবির মধ্যে দুটি দাবি মেনেছে ও একটি দাবি বাকি আছে সেটি হলো ১২ ফুট উঁচু স্থানের কবর নিচু করতে হবে। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসকের সাথে কয়েক দফায় মিটিং হয়েছে, সেখানে প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা ছিল। নুরাল পাগলের পরিবার গত শুক্রবার পর্যন্ত সময় নিয়েছিল, সেটি মেনে পুনরায় আরো এক সপ্তাহ পেরিয়ে গিয়েছে। ৪ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত সময় নিয়েছে। এই বৃহস্পতিবারের মধ্যে যদি কোন সমাধান না হয় তাহলে শুক্রবার বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেয়ার হুশিয়ারি দেন তৌহিদী জনতা, বিক্ষোভ মিছিল শেষে বিভিন্ন কর্মসূচী দেয়ার ঘোষণা দেন তৌহিদী জনতা একতাবদ্ধ হয়ে প্রয়োজনে মার্চ টু গোয়ালন্দ কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলে মন্তব্য করেন বক্তারা, হাজার হাজার তৌহিদী জনতা ও মুসলিম এক হবে বলে মন্তব্য করেন , গোয়ালন্দের বুকে ইসলামের শরীয়তে পরিপন্থী কোন নুরাল পাগলের মাজার রাখা হবেনা না । এবং ইমাম মেহেদী দাবিদার নূরালের মাটি থেকে প্রায় ১২ ফুট উঁচুতে বিশেষ কায়দার এই কবর টি ভেঙ্গে চুরমার করে দেয়া হবে।
২৩ আগস্ট ভোর রাতে বার্ধক্য জনিত কারণে মারা যায় নুরাল পাগল,গোয়ালন্দ পৌর শহরের ৫ নং ওয়ার্ডে মাটি থেকে প্রায় ১২ ফুট উঁচুতে কাবা শরীফের আদলে বিশেষ কায়দায় দাফন করেন নুরাল পাগলের,তাতেই ফুসে ওঠেন তৌহিদী জনতা । আশির দশকের শেষের দিকে বিতর্কিত আলোচনায় এসে পরে গোয়ালন্দর নিজ বাড়িতে দরবার শরীফ গড়ে তোলেন এই পাগল, মৃত্যুকালে রেখে গিয়েছেন দুই পুত্র সন্তান ও দুই কন্যা সন্তান এবং কয়েক হাজার ভক্তবৃন্দ , তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন নুরাল পাগলের ভক্তরা