
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি ॥
ঠাকুরগাঁও শহরের মুন্সিপাড়া গোরস্থানের পাশে নির্মাণাধীন একটি চারতলা ভবনের দেয়াল ধ্বসে গুরুতর আহত হয়েছেন স্বপন আলী (১৯) নামের এক শিক্ষার্থী। গত ২১ সেপ্টেম্বর (রোববার) বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন দায়িত্বরত চিকিৎসক।
আহত স্বপনের বড় ভাই রবিউল ইসলাম বাবু গতকাল (শনিবার) ঠাকুরগাঁও সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
জানা গেছে, দিনাজপুরের একটি বেসরকারি টেকনিক্যাল কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র স্বপন আলী ঠাকুরগাঁও মুন্সিপাড়ার রানা মেসের একটি রুমে ভাড়া থেকে পড়াশোনা করতেন। ঘটনার দিন বাহির থেকে ফিরে তিনি তার কক্ষে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। এ সময় পাশের নির্মাণাধীন ভবনের উপরের অংশ থেকে দেয়ালের একাংশ ধসে পড়ে তার রুমের উপর। ফলে তিনি মাথা ও মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত পান।
দেয়াল ধ্বসের শব্দে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় স্বপনকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি নিউরো সার্জন ডা. তোফায়েলের অধীনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, স্বপনের মাথা ও মেরুদণ্ডে দুটি বড় ধরনের অপারেশন প্রয়োজন, পাশাপাশি মেরুদণ্ডের তিনটি হাড়ে রিং বসাতে হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই এই অপারেশন না হলে তার চলাফেরা করার সম্ভাবনা হুমকির মুখে পড়বে।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্বপন সাংবাদিকদের জানান, “আমি আমার রুমে শুয়ে ছিলাম, হঠাৎ বিকট শব্দ হয় এবং ভারি কিছু আমার উপর পড়ে। এরপর জ্ঞান হারাই। জ্ঞান ফিরে দেখি আমি হাসপাতালের বেডে। শরীর নাড়াতে পারছি না। লেখাপড়ার পাশাপাশি আমি বনসাই গাছ ও হস্তশিল্প বানাতাম, যেগুলো বিক্রি করে পড়াশোনার খরচ চালাতাম। সেগুলোও নষ্ট হয়ে গেছে। এখন জানি না আবার কখন কলেজে যেতে পারবো।”
দুর্ঘটনার বিষয়ে নির্মাণাধীন ভবনের মালিক ও তহসিলদার নুর ইসলাম বলেন, “স্বপন সুস্থ হলে পারিবারিকভাবে বসে একটা সমাধান করা যাবে।” তবে কেন নিরাপত্তা বেষ্টনি ছাড়া ভবন নির্মাণ চলছিল, সে বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সরোয়ারে আলম খান জানান, “আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। নির্মাণাধীন ভবনে সঠিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।