
শাহেদ আহমেদ,
সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার এক যুবক প্রায় এক মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে পরিবার। অবশেষে ছেলের সন্ধান এবং প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন অসহায় পিতা মো. ইউসুফ আলী।
রোববার (২১ জুন) দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের আব্দুল মোতালেব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের সুভদ্রাকাটি গ্রামের বাসিন্দা মো. ইউসুফ আলী। এ সময় তিনি তার নিখোঁজ ছেলে নাহিদ হাসান (২৫)-এর সন্ধান পেতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, তার ছেলে নাহিদ হাসান গত ২৫ মে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সাতক্ষীরা জজকোর্ট এলাকার এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে নিজ গ্রামের বাড়ি সুভদ্রাকাটির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কিন্তু বাড়িতে পৌঁছানোর আগেই তিনি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান। ওই দিন থেকে অদ্যাবধি তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
ইউসুফ আলী বলেন, ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজ নেওয়া হয়েছে। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, পরিচিতজনসহ বিভিন্ন এলাকায় অনুসন্ধান চালানো হলেও কোথাও তার সন্ধান মেলেনি। এমনকি বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেও কোনো সূত্র পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, নিখোঁজ হওয়ার সময় নাহিদের কাছে একটি মোবাইল ফোন ছিল, যার নম্বর ০১৮৮৯-৫৮৯৫৩৯। তবে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই ফোনটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ স্থাপন করতে পারছেন না।
নিখোঁজ নাহিদের শারীরিক বর্ণনা তুলে ধরে তিনি বলেন, তার গায়ের রং শ্যামলা, উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি এবং মুখমণ্ডল গোলাকার। নিখোঁজ হওয়ার সময় তার পরনে ছিল কালো রঙের প্যান্ট ও গোলগলা গেঞ্জি।
সংবাদ সম্মেলনে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে ইউসুফ আলী বলেন, “এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ছেলের কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। প্রতিটি মুহূর্ত আমাদের কাছে দুঃস্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে। পরিবারের সবাই চরম মানসিক কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। একজন পিতা হিসেবে আমি অসহায় হয়ে পড়েছি। আমার ছেলে কোথায় আছে, কেমন আছে—সেই চিন্তায় আমরা দিনরাত উদ্বিগ্ন।”
তিনি বলেন, সন্তান হারানোর বেদনা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশায় প্রতিদিন অপেক্ষা করছেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু সময় যত গড়াচ্ছে, তাদের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ততই বাড়ছে।
এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। পাশাপাশি নাহিদ হাসানের অবস্থান সম্পর্কে কোনো ব্যক্তি তথ্য জেনে থাকলে তা দ্রুত পরিবার বা প্রশাসনকে জানানোর অনুরোধ করেন।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে ইউসুফ আলী তার নিখোঁজ ছেলে নাহিদ হাসানকে দ্রুত খুঁজে বের করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, মানবাধিকার সংগঠন, গণমাধ্যমকর্মী এবং সমাজের সচেতন নাগরিকদের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তার ছেলের সন্ধান মিলবে এবং দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটবে।