সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
কুমিল্লা বুড়িচংয়ে ইউপি চেয়ারম্যানসহ আ. লীগের ১৩ নেতাকর্মী আ’ট’ক পাঁচবিবিতে ওসির অ’ভি’যা’নে মা’দ’ক ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে ১৬০ বোতল ফা’য়া’র’ডি’ল উ’দ্ধা’র কুমিল্লায় ১০-বিজিবির অ’ভি’যা’নে ৭৪ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি উ’দ্বা’র কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়ায় পৃথক অ’ভি’যা’নে ২৩৫০ ভারতীয় বাজিসহ গ্রে’প্তা’র-১৬ ঠাকুরগাঁওয়ে মিড ডে মিল খেয়ে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৭ শিক্ষার্থী হাসপাতালে দলীয় মনোনয়ন পেলে উন্নয়ন ও জনসেবায় কাজ করার প্রত্যয় শাহ আলমের কুমিল্লায় মা ও ভাতিজিকে কু’পি’য়ে হ’ত্যা, ছেলে আ’ট’ক বিজিবি কর্তৃক রাজশাহী সীমান্তে অ’ভি’যা’ন পরিচালনা করে ৩২ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের ০১ টি কষ্টি পাথর সদৃশ্য মূল্যবান পাথরের মূ’র্তি আ’ট’ক ন‌ওগাঁর পোরশায় ট্যা’পে’ন্টা’ড’লসহ দুই মা’দ’ক কারবারি আ’ট’ক নিয়ামতপুরে ৫০০ গ্রাম গাঁ’জা’সহ একজন গ্রে’প্তা’র

নীলফামারী ডিমলায় ভয়াবহ বিল জালিয়াতির অভিযোগে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও, ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের বিক্ষোভ

  • আপডেট সময় : সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬
  • ৮৯ বার পঠিত

মনিরুজ্জামান মিলন পাটোয়ারী,
নীলফামারী

নীলফামারীর ডিমলায় বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম, অতিরিক্ত বিল আদায় এবং গ্রাহক হয়রানির অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে জনমত। সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা সত্ত্বেও বিল প্রদান, মিটার রিডিংয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ইউনিট দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং বিকল মিটারের নামে মাসের পর মাস বিল করার অভিযোগে ক্ষুব্ধ শত শত গ্রাহক পল্লী বিদ্যুতের ডিমলা সাব-জোনাল অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। রোববার (২১ জুন) সকাল ১১টা থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা কয়েকশ গ্রাহক ডিমলা পল্লী বিদ্যুৎ সাব-জোনাল অফিসের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। একপর্যায়ে তারা অফিস ঘেরাও করে দায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, ভুয়া ও অতিরিক্ত বিল বাতিল এবং গ্রাহক হয়রানির অবসানের দাবি জানান। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া গ্রাহকদের অভিযোগ, প্রকৃত বিদ্যুৎ ব্যবহারের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি ইউনিট দেখিয়ে বিল প্রস্তুত করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পরও নিয়মিত বিল পাঠানো হয়েছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বিকল মিটার পরিবর্তন না করে অনুমাননির্ভর বিল আদায় করা হচ্ছে, যা সাধারণ গ্রাহকদের চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে। ডিমলা সদর ইউনিয়নের নটাবাড়ি গ্রামের কৃষক মশিয়ার রহমান জানান, তার সেচ সংযোগ দুই মাস ধরে বিচ্ছিন্ন থাকলেও তাকে ২ হাজার ৯৬৬ টাকার বিল পরিশোধের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই ইউনিয়নের মমিনুর রহমান অভিযোগ করেন, তার প্রকৃত ব্যবহারের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি বিল করা হয়েছে। নাউতারা ইউনিয়নের আকাশকুড়ি গ্রামের রশিদুল ইসলাম বলেন, আমার মিটারে রিডিং ৮৩৭, অথচ বিলে দেখানো হয়েছে ১১৯২ ইউনিট। অতিরিক্ত এই ইউনিট কোথা থেকে এলো, তার কোনো ব্যাখ্যা নেই। অপরদিকে রামডাঙ্গা গ্রামের নুর ইসলাম জানান, প্রায় ছয় মাস আগে তার মিটার বিকল হয়ে যায়। নতুন মিটারের জন্য আবেদন করেও কোনো সাড়া পাননি। অথচ কার্যত বিদ্যুৎ ব্যবহার না করলেও নিয়মিত বিল পাঠানো হচ্ছে। সর্বশেষ বিলে ৬০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব দেখানো হয়েছে। গ্রাহকদের দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং বৃহৎ পরিসরে সংঘটিত একটি অনিয়ম, যার ফলে হাজারো পরিবার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিকার চেয়ে অফিসে গেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কার্যকর কোনো সমাধান দেওয়া হয় না। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ডিমলা পল্লী বিদ্যুতের সাব-জোনাল ম্যানেজার (এজিএম) মো. মাসুদ আলম সাংবাদিকদের জানান, ঈদের দীর্ঘ ছুটির কারণে মিটার রিডাররা নির্ধারিত সময়ে রিডিং সংগ্রহ করতে পারেননি। ফলে বিল প্রস্তুতের সময় কিছু ভুল হয়েছে। তিনি গ্রাহকদের বিল সংশোধনসহ দ্রুত সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেন। তবে একযোগে বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের বিলে একই ধরনের ভুল কীভাবে হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গ্রাহকদের অনেকেই মনে করছেন, এটি কেবল প্রশাসনিক ত্রুটি নয়; বরং বিলিং ব্যবস্থাপনায় গুরুতর অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার ফল। ডিমলা সাব-জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় প্রায় ৭৭ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে। এর মধ্যে ৬৫ হাজারেরও বেশি আবাসিক গ্রাহক। ফলে বিলিং ব্যবস্থার সামান্য অনিয়মও বিপুল সংখ্যক মানুষের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এ বিষয়ে নীলফামারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বোর্ডের এলাকা পরিচালক প্রভাষক সাজেদুল ইসলাম লিটন বর্তমান এজিএম মাসুদ আলম ও বিলিং কর্মকর্তা নাসিমা বেগমকে দায়ী করে বলেন, দায়িত্বে অবহেলা এবং তদারকির ঘাটতির কারণে গ্রাহকরা সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন। বিষয়টি ইতোমধ্যে সমিতির জেনারেল ম্যানেজারকে অবহিত করা হয়েছে। নীলফামারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার শেখ মনোয়ার মোরশেদ বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিল সংশোধন করা হবে। তবে স্বল্প সময়ে বিপুল সংখ্যক বিল কীভাবে সংশোধন করা হবে, এ বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য না দিয়েই তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ঘটনাটির নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। সংযোগ বিচ্ছিন্ন বা বিকল মিটার থাকা অবস্থায় যদি প্রকৃতপক্ষে বিল আদায় করা হয়ে থাকে, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও বিবেচনায় আনা উচিত।
এদিকে বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, দ্রুত সংশোধিত বিল প্রদান, দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং গ্রাহক হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© All rights reserved © 2022 daily Ajker Songram
Customized By Shakil IT Park