
এ.কে পলাশ কুমিল্লা
কুমিল্লা সদরের ছত্রখিল এলাকায় যুবদল নেতা কাউছার হত্যার ঘটনায় জড়িত দুই আসামি তৌহিদ ও তানজিরকে গ্রেপ্তার করে ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তাদের আদালতে হাজির করা হলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুই আসামির বিরুদ্ধে ১৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট কাইয়ুমুল হক রিংকু।
এর আগে, শনিবার (১৭ অক্টোবর) কুমিল্লা জেলা পুলিশের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান। এ সময় র্যাব-১১, কুমিল্লা সিপিসি-২ ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, কোতোয়ালি মডেল থানার অধীন ছত্রখিল এলাকার উপজেলা মডেল মসজিদের বিপরীত দিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন একটি জায়গাকে কেন্দ্র করে তানজির ও তার আপন ছোট ভাই তৌহিদের সঙ্গে কাউছার ও শামীমের বিরোধ চলছিল।
ঘটনার দিন শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে তৌহিদ ও তানজিরসহ কয়েকজন ওই জায়গায় কফি শপ তৈরির কাজ করছিলেন। এ সময় কাউছার, শামীমসহ আরও কয়েকজন সেখানে পৌঁছালে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তৌহিদ ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন কাউছার ও শামীমের ওপর হামলা চালান।
তৌহিদের হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কাউছারকে গুরুতর জখম করা হয়। এ সময় কাউছার ও শামীমসহ কয়েকজন আহত হন। হামলার পর অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। গুরুতর আহত কাউছারকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হত্যাকাণ্ডের পরপরই জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে শুক্রবার মধ্যরাতে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের নুরপুর এলাকা থেকে তৌহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর এলাকা থেকে তানজিরকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
পুলিশ আরও জানায়, তৌহিদের বিরুদ্ধে এর আগে হত্যা মামলাসহ সাতটি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে তানজিরের বিরুদ্ধে একটি মামলা বিচারাধীন বা তদন্তাধীন।