
শরিয়তপুর প্রতিনিধি:
শরীয়তপুরের জাজিরায় মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানকে কেন্দ্র করে শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইদ আহমেদ আসলামসহ উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে উপজেলার পালেরচর এলাকার পদ্মা নদীতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ৪৫ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁদের মধ্যে ৪০ জনকে ১০ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বাকি পাঁচজন অপ্রাপ্তবয়স্ক ও প্রতিবন্ধী হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, মা ইলিশ সংরক্ষণে পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছিল মৎস্য বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসন। সোমবার সকালে পালেরচর এলাকায় অভিযান চলাকালে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার করা জেলেদের সঙ্গে অভিযান পরিচালনাকারী দলটির সাথে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
একপর্যায়ে শতাধিক জেলে লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর চড়াও হন। এ সময় সংসদ সদস্য সাইদ আহমেদ আসলাম, জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জেলা মৎস্য কর্মকর্তার বহর লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অভিযান পরিচালনাকারী দলটি সাময়িকভাবে পিছু হটে। পরে সেনাবাহিনী ও নৌ-পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান জোরদার করেন। একপর্যায়ে হামলাকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এসময় ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকা থেকে ৪৫ জেলেকে আটক করে প্রশাসন।
পরে সহকারী কমিশনার (জেলা প্রশাসকের কার্যালয়) তৌহিদুর রহমান ও জাজিরা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় আটক ৪৫ জনের মধ্যে ৪০ জনকে ১০ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বাকি পাঁচজন অপ্রাপ্তবয়স্ক ও প্রতিবন্ধী হওয়ায় অভিভাবক ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে মুচলেকা নিয়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
এবিষয়ে শরীয়তপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব জানান, দুর্গম চরাঞ্চলে অসাধু জেলেরা একত্রিত হয়ে আগ্রাসী মনোভাব দেখানোর চেষ্টা করেছিল। তবে যৌথ বাহিনীর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের কারণে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। ওই সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য বিভিন্ন ঘাটে গিয়ে জেলেদের সচেতন করছিলেন এবং মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা পালনে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করছিলেন।
ঘটনার বিষয়ে সংসদ সদস্য সাইদ আহমেদ আসলাম বলেন, “বিষয়টিকে আমি ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে দেখছি না। মূলত সরকারি আইন ও অভিযান প্রতিহত করার উদ্দেশ্যেই তারা এ ধরনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। নিবন্ধিত জেলের বাইরের কিছু অসাধু লোক বেআইনিভাবে মা ইলিশ শিকারের চেষ্টা করছে। জাতীয় সম্পদ মা ইলিশ রক্ষায় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের এই কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।”