
নিজস্ব প্রতিবেদক
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বেজুগালিয়া এলাকায় জমি থেকে গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক দম্পতির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কামরুজ্জাহান বেগম (৪০) নামের এক নারী হাতিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং দুই পক্ষকে নিয়ে বসার জন্য সময় নির্ধারণ করেছে।
অভিযোগে প্রতিবেশী সমীর উদ্দিন (৪৫), তাঁর স্ত্রী জান্নাত বেগমসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে অভিযুক্ত করেছেন কামরুজ্জাহান বেগম।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁর মালিকানাধীন জমি থেকে গাছ কাটতে শুরু করেন। এ সময় বাধা দিলে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, এ সময় দুটি করই গাছ কেটে ফেলা হয়েছে এবং জমির অন্যান্য গাছও কাটার চেষ্টা করা হচ্ছে।
কামরুজ্জাহান বেগমের দাবি, তিনি ও তাঁর স্বামী ক্রয়সূত্রে ওই জমির মালিক এবং দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। জমির নামজারি ও খারিজের কাগজপত্র এবং ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের নথিও তাঁদের নামে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, অভিযুক্তদের ওই জমিতে কোনো মালিকানা বা দখলস্বত্ব নেই।
অভিযোগে আরও বলা হয়, তাঁর স্বামী ও ছেলেরা বাড়িতে না থাকার সুযোগে অভিযুক্তরা প্রায়ই জমি থেকে জোরপূর্বক গাছ কেটে নিয়ে যান। এর আগে গত ৮ অক্টোবরও গাছ কাটার চেষ্টা করা হলে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দিলে গাছ কাটা বন্ধ হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন তিনি।
পুনরায় গাছ কাটার ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জানিয়ে কামরুজ্জাহান বেগম ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে হাতিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নোমান বলেন, আমি সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। আগামীকাল দুই পক্ষকে নিয়ে বসার জন্য একটি তারিখ দিয়েছি। বাকি বিষয়গুলো কাগজপত্র দেখার পর বলা যাবে।
অন্যদিকে, অভিযুক্তদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগে জমির পরিচয় হিসেবে নোয়াখালীর হাতিয়া থানাধীন চর তমরদ্দি মৌজার সংশোধিত ৬৭১৭ নম্বর খতিয়ানের ৫০০৬০ নম্বর দাগ উল্লেখ করা হয়েছে।