
নিজস্ব প্রতিবেদক:
উন্নত জীবনের আশায় অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে আসাম পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ৩৬ জন নাগরি গত ৩০ অক্টোবর (২০২৬) ভোরে আসামের ধুবড়ি জেলার ব্রহ্মপুত্র নদের ‘জোগমায়া ফেরিঘাট’ থেকে তাঁদের আটক করা হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইটিভি আসাম, পিটিআই ও এএনআই সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে
ধুবড়ি জেলা পুলিশ প্রশাসন জানায়, সুনির্দিষ্ট গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জোগমায়া ফেরিঘাটে একটি বিশেষ অভিযান চালায় পুলিশ। হাটশিংমারি থেকে ধুবড়িগামী একটি যাত্রীবাহী নৌকা ঘাটে পৌঁছালে তল্লাশি চালানো হয়। ওই নৌকায় থাকা প্রায় ১২০ জন যাত্রীর মধ্যে নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের এই ৩৬ জন বাংলাদেশিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানান, তাঁরা সবাই পেশায় রাজমিস্ত্রি ও দিনমজুর। বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের অভাব ও আর্থিক অনটনের কারণে অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দেন। মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের পর দক্ষিণ শালমারা-মানকাচর জেলা হয়ে নৌকাযোগে ধুবড়ির দিকে আসছিলেন তাঁরা। এই অবৈধ যাত্রার জন্য ‘মিলন’ নামের এক দালাল চক্রকে তাঁরা জনপ্রতি ১৫,০০০ থেকে ১৭,০০০ ভারতীয় রুপি দিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন। ধুবড়ি হয়ে তাঁদের ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য চেন্নাইয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
আসামের রাজ্য সরকার গত কয়েক মাস ধরে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ধুবড়ির এসএসপি দেবাশীষ বোরার নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে আটককৃতদের কাছে কোনো বৈধ পাসপোর্ট বা ভিসা পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ভারতে প্রবেশের দায়ে আটককৃতদের বিরুদ্ধে ফরেনার্স অ্যাক্ট ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁদের ধুবড়ি জেলা পুলিশ হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং অনুপ্রবেশের এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের বাংলাদেশে পুশব্যাক বা প্রত্যর্পণের ব্যবস্থা করা হবে।