
মনিরুজ্জামান মিলন পাটোয়ারী, নীলফামারী
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরা, দিবসটির গুরুত্ব স্মরণ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সম্মান জানাতে নীলফামারীর জলঢাকায় দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে পৃথক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম হলরুমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপির সভাপতিত্বে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে সঞ্চালনা করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কামরুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাবিবুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মিজানুর রহমান, থানা পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র ফাহমিদ ফয়সাল চৌধুরী কমেট, উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহাজাহান কবির লেলিন, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব শাহিনুর হক বাবুসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সুধী সমাজের প্রতিনিধিরা।
আলোচনা সভায় বক্তারা জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, তাৎপর্য ও জাতীয় জীবনে এর গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্য দেন। তাঁরা দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে সচেতন করার পাশাপাশি জাতীয় ঐক্য, সংহতি ও পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আলোচনা সভা শেষে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এদিকে, একই দিন দুপুর ১২টায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের তৃতীয় তলায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে পৃথক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান স্ট্যালিন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মিজানুর রহমান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সদস্য সচিব কামরুজ্জামান এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন। আলোচনা সভায় জলঢাকা উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য, নিহত মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান, সাংবাদিক ও সুধী সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বক্তারা মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান, তাঁদের সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তাঁরা বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই অর্জিত হয়েছে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। তাই বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করা সবার নৈতিক দায়িত্ব। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা। দিনব্যাপী এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জলঢাকায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরার পাশাপাশি বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানানোর মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়।