
নিজস্ব প্রতিবেদক
বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিন পশ্চিম আমতলী গ্রামে ০৯ এপ্রিল রবিবার গভীর রাতে শ্বশুর বাড়িতে আত্মহত্যা করেছেন সেকান্দারখালী গ্রামের আবু হানিফ (৩৫)। স্ত্রীর পরকিয়ার জের ধরে অভিমানে আত্মহত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে তবে স্বজনদের অভিযোগ পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে।
আমতলী সদর ইউনিয়নের সেকান্দারখালী গ্রামের হারুন হাওলাদারের ছেলে আবু হানিফের (৩২) সাথে একই ইউনিয়নের দক্ষিণ পশ্চিম আমতলী গ্রামের মৃত তোফাজ্জেল হাওলাদারের মেয়ে রিপার (২৫) সাথে ২০১৬ সালে বিয়ে হয়। তাদের পরিবারে শাহিন (৬) নামে এক পুত্র সন্তান রয়েছে।
হানিফের পরিবারের অভিযোগ, রিপা সেকান্দারখালী গ্রামের ইউপি সদস্য আবু হানিফ বাবুর সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পরলে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া সূত্রপাত হয়। গত ১ এপ্রিল রিপা আমতলী সদর ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে স্বামী আবু হানিফকে তালাকের নোটিশ পাঠালে গত রবিবার রাতে হানিফ তার শ্বশুর বাড়ি যায়।
গুরুতর অবস্থায় হানিফকে স্ত্রী রিপা আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেএক্সে নিয়ে আসলে তার অবস্থা আশঙ্কা জনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
আবু হানিফের মামা মোঃ মোশারেফ হোসেন বলেন, রিপা বেগম পরকীয়া করায় হানিফকে হত্যার জন্য জোরপূর্বক পোকামাকড় দমনের গ্যাসের ট্যাবলেট খাইয়ে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করেছে। আমরা এঘটনায় হত্যা মামলা করবো।
আবু হানিফ এর বোন হালিমা বেগম বলেন, বিয়ের পর থেকেই রিপা পরকীয়ায় জরিয়ে পরে। সে আমার ভাইকে তালাকের নোটিশ পাঠিয়েছিল এবং ঘটনার দিন সে স্ত্রী রিপার নিকট গেলে তাকে বিষাক্ত ট্যাবলেট খাইয়ে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে।তিনি আরও বলেন আমার ভাইয়ের মৃত্যু নিশ্চিত করেই রিপা হাসপাতাল থেকে পালিয়ে গেছে।
অভিযুক্ত রিপা বেগম বলেন, আমি কখনোই পরকিয়ায় জড়াই নাই। আবু হানিফের সাথে আমার সাংসারিক বনিবনা না হওয়ায় তাকে আমি ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ১ এপ্রিল তালাকের নোটিশ পাঠিয়েছি এবং আমাদের বাড়িতে আসতে নিষেধ করেছি। সে রবিবার রাতে আমার বাবার বাড়ি এসে ঘোরাঘুরি করতে থাকে এবং কিছুক্ষন পর হঠাৎ গ্যাসের ট্যাবলেট সেবন করে আমাদের বাড়িতে এসে অসুস্থ হয়ে পরে। তাৎক্ষনিক তাকে আমরা আমতলী হাসপাতালে নিয়ে গেলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় পটুয়াখালী হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার মৃত্যু হয়। এর আগে আমি সব ঘটনা জানিয়ে ৯৯৯ ফোন করি।
আমতলী থানার ওসি তদন্ত রনজিৎ কুমার সরকার জানান, ৯৯৯ থেকে ফোন পেয়ে আমরা আবু হানিফের স্বজনদের খবর দেই। এবং হাসপাতালে পুলিশ পাঠাই। আবু হানিফকে পটুয়াখালী হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু হওয়ায় ওই হাসপাতালে তার ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।