
বিশেষ প্রতিনিধি:
কেরাণীগঞ্জ মডেল থানাধীন ঘাটারচর শান্তিনগর টানপাড়া এলাকায় দিদারুল আলম তার শশুর বাড়ীর ৩য় তলায় স্ব-পরিবারে বসবাস করে আসছিলো, ১৪-ই মে সকাল ০৭.০০ সময় দিদারুল আলম এর মেয়ে নুসরাত (১৪) স্কুলে যাওয়ার জন্য বাসা হইতে বাহির হইয়া ঘাটারচর টানপাড়া ইনান মিয়ার বাড়ীর সামনে পৌঁছালে দিদারুল আলম এর শশুর বাড়ীর ভাড়াটিয়া ফারজানা ও তার স্বামী আমিন উদ্দিন নুসরাতকে ভুল বুঝাইয়া কৌশলে স্কুলের দিকে নিয়া যায়। ইনান মিয়ার বাড়ীর ভাড়াটিয়া বিষয়টি দেখিতে পায়,আসামি ফারজানা ও নুসরাত একই বাড়ীতে বসবাস করতো বিধায় কাহারো কোন সন্দেহ হয় নাই। পরবর্তীতে সকাল অনুমান ১০.০০ টার সময় নুসরাতের খালাতো বোন তাসমিম টিফিনের সময় বাসায় এসে জানায় নুসরাত স্কুলে যায়নি। পরিবারের লোকজন সকল স্থানে নুসরাতকে খোঁজাখুজি করার একপর্যায় নিচতলার ভাড়াটিয়ার রুমে খুঁজতে গেলে দেখে ভাড়াটিয়া ফারজানা ও তার স্বামী আমিন উদ্দিন বাসায় কেউ নাই এবং তাদের কোন মালামালও রুমের মধ্যে নাই। তখন প্রতিবেশী ইনান এর বাড়ীর ভাড়াটিয়া মাধ্যমে জানতে পারে ফারজানার সাথে নুসরাতকে এক সঙ্গে বাড়ী হইতে বাহিরে যাইতে দেখিয়াছে। নুসরাতের মা তাৎক্ষনিক ফারজানার স্বামী আমিন উদ্দিন এর সহিত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করিলে সে এই বিষয়ে কিছু জানেনা বলিয়া জানায় এবং মোবাইল ফোন বন্ধ করিয়া দেয়। পরবর্তীতে বিকাল ০৫:৩০ ঘটিকার সময় মোবাইল নম্বর ০১৭০৪-৯৯৬০৭১ হইতে নুসরাতের খালা শাহিনা আক্তার এর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর ০১৭৬৪-৭৭৭৪৭৫ তে কল করিয়া নুসরাতকে ভয়ভীতি দেখাইয়া নুসরাতের খালার সাথে কথা বলে জানায়, নুসরাতকে খোঁজাখুজি করলে বা থানা পুলিশ করিলে নুসরাতের লাশ পাইবা,নুসরাতকে পাইতে হলে আমাদেরকে পাঁচ লক্ষ টাকা দিতে হবে”। এই বলিয়া মোবাইল ফোন কাটিয়া দেয়। এরপর হইতে উক্ত মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। নুসরাতের মায়ের এমন লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে কেরাণীগঞ্জ মডেল থানায় একটি মামলা রুজু করেন, মামলা নং ৬০(৫) ২৩ । জনাব মোঃ আসাদুজ্জামান, পিপিএম (বার) পুলিশ সুপার, ঢাকা এর দিকনির্দেশনায়, কেরাণীগঞ্জ সার্কেল এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব মোঃ শাহাবুদ্দীন কবীর, বিপিএম এর সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার এসআই আবুল কালাম আজাদ এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস অভিযানিক দল খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি জেলার লংগদু উপজেলার দূর্গম পাহাড়ি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করিয়া অপহৃত ভিকটিম নুসরাত কে উদ্ধার করে এবং নিম্নে উল্লেখিত মুক্তিপন আদায়ের উদ্দেশ্যে অপহরণকারী মূল হোতা ফারজানা আক্তারকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আছে। গ্রেফতারকৃত আসামী পুলিশ রিমান্ডের আবেদন সহ বিজ্ঞ আদালতে প্রেরনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। উল্লেখ্য যে, গ্রেফতারকৃত আসামী ফারজানা আক্তার ও তার স্বামী আমিন উদ্দিন পাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য ইতিপূর্বে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় অপহরন ও মুক্তিপন দাবির একাধিক মামলা রয়েছে। মামলা রুজু হওয়ার পর পুলিশের তরিৎ অভিযান, ভিকটিম উদ্ধার ও আসামী গ্রেফতার করায় এলাকায় স্বস্তি ফিরিয়া আসিয়াছে।
গ্রেফতারকৃত আসামি একজনঃ-
১) ফারজানা আক্তার (২৯), পিতা-আনোয়ার হোসেন, মাতা-হুসনে আরা, স্বামী আমিন উদ্দিন, স্থায়ী ঠিকানা পশ্চিম মাহিমপুর, থানা-দোয়ারা বাজার, জেলা-সুনামগঞ্জ, বর্তমান ঠিকানা-ঘাটারচর শান্তিনগর নাজিম উদ্দিনের বিল্ডিং এর নিচ তলার পশ্চিম পাশের ফ্লাটের ভাড়াটিয়া, থানা-কেরানীগঞ্জ মডেল, জেলা-ঢাকা।
অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মামুন অর-রশিদ বলেন
আসামীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের শেষে আসামীদের কোর্টে প্রেরন করা হয়েছে ।