
নিজেস্ব প্রতিনিধি:
শরীয়তপুরের জাজিরায় আদালতের রায় অমান্য করে অবৈধভাবে জমি দখল করার পর ভুক্তভোগী পরিবারের বিরুদ্ধেই মানববন্ধন করা হয়েছে। বুধবার (২৪-মে) সকালে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে জমি দখলকারী ব্যাক্তিরা।
জানা গেছে, উপজেলার কাজীরহাট এলাকার আ: রাজ্জাক উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে মুনসুর মৃধা নামে এক ব্যাক্তির জমি দখল নেয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী হোসেন কাজী। তার দাবি দখল নেয়া জমি বিদ্যালয়ের কেনা সম্পত্তি। তবে মুনসুরের দাবি জমিটির মালিক তিনি। তিনি এখানে দীর্ঘদিন ধরে বসতবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন।
মুনসুর মৃধা জানান, এই জমি নিয়ে প্রায় তিন বছর ধরে বিবাদ চলমান। জমিটি নিয়ে উভয় পক্ষই মামলা করেছিলো। সর্বশেষ গত ৯-মে উচ্চ আদালতে ইনজাংশন জারি করেন মুনসুর। আদালতে অমীমাংসিত থাকার পরেও জোর করে ২০-মে মুনসুর মৃধার একটি ঘর ভেঙে জমি দখল করে প্রধান শিক্ষক আলি কাজীর নেতৃত্বে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যাক্তি।
বিষয়টি নিয়ে একাধিক গণমাধ্যমে নিউজ প্রকাশ হলে উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারের বিরুদ্ধেই মানববন্ধনের আয়োজন করে জমি দখলে নেতৃত্ব দেয়া আলি হোসেন কাজী সহ পৌর কাউন্সিলর দবির হোসেন বেপারীর লোকজন। মুনসুর সহ তার পরিবারের দাবি মানববন্ধনে অংশ নেয়া ব্যাক্তিরা তাদের জমি থেকে পুরোপুরি উৎখাত করার হুমকি দেয়।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিদের বিষয়টি সমাধান করার কথা ছিলো। তবে কিছু দুষ্কৃতকারীরা মুনসুরের ঘর ভাঙচুর করেছে শোনার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। মানববন্ধনের বিষয়টি তিনি জানেন না বলেও জানান।
উল্লেখ্য, মুনসুর মৃধা ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে জমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ ও মামলা চলমান। বিষয়টি নিয়ে গত ১৯-মে শালিস বৈঠক হওয়ার কথা ছিলো। তবে হটাৎ মুনসুর মৃধা অসুস্থ হওয়ায় তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। কিন্তু পরেরদিন শালিসরা উপস্থিত হয়ে জমি মাপার কাজ করে। এরপর স্থানীয় শালিসরা চলে গেলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী হোসেন কাজী ও পৌর কাউন্সিলর দাবির হোসেন বেপারীর নেতৃত্বে ২০-৩০ জনের একটি দল সন্ত্রাসী হামলা করে মুনসুরের ঘর ভাঙচুর করে। বাধা দিতে এলে মুনসুরের পরিবারের একাধিক নারী সদস্যদের মারধর করা হয়। যাদের মধ্যে একজন গর্ভবতী মহিলা ছিলো। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা সমালোচনা শুরু হলে নতুন করে ভুক্তভোগী পরিবারের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করে জমি দখল নেয়া ব্যাক্তিরা।