
বিশেষ প্রতিনিধি
জেরিন তাসনিম(ছদ্মনাম) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ঢাকার একটি কলেজে অর্থনীতিতে দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছে, মধ্যবিত্ত পরিবারের দুই ভাইবোনের মধ্যে জেরিন বড়, ছোট ভাইটি উচ্চমাধ্যমিক এ পড়ছে, জেরিন চঞ্চল হাসিখুশি একটা মেয়ে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক চালাতে গিয়ে জেরিন দেখে ওকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট দিয়েছে আসিফ আহমেদ(ছদ্মনাম) নাম একজন ব্যক্তি, কৌতূহলবশত আসিফ এর প্রোফাইলে জেরিন ঢুকে দেখে আসিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কিছুদিন আগে নিয়োগ পেয়েছে, বর্তমানে সে তার কর্মস্থল চুয়াডাঙ্গাতে অবস্থান করছে, জেরিন তেমন কিছু না ভেবেই যেহেতু প্রোফাইল দেখে মনে হচ্ছে ভালো অবস্থান, ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করলো। ধীরে ধীরে আসিফ এর সাথে চ্যাট শুরু হলো, তারপর একদিন আসিফ ওর মোবাইল নম্বর নিয়ে মোবাইলে কথা বললো,আসিফ এর আকর্ষণীয় ভয়েস, ব্যাক্তিত্ব সব মিলিয়ে জেরিনের ও আসিফকে খুব ভালো লাগে, দুজনের অনুভূতি আদানপ্রদানের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে, আসিফ এর সাথে জেরিনের যা কথা হতো সব ফেসবুক আর মোবাইলেই সীমাবদ্ধ ছিল, সামনে কখনোই জেরিন দেখেনি আসিফকে, মাঝে মাঝে অফিসিয়াল দায়িত্ব পালনের ছবি দিতো যেখানে দূর থেকে মাস্ক পড়া আসিফ দায়িত্ব পালন করছে।
সম্পর্কের পাঁচ মাস পর আসিফ জেরিনকে বিবাহ প্রস্তাব দেয়, এখনই পারিবারিকভাবে জানাবেনা কিছু বললো আসিফ কারণ তার বড় ভাই এর বিয়ে কিছুদিন পর, এখন আপাতত নিজেরা বিয়ে করে রাখবে পরে সময় হলে পরিবারকে জানাবে একথা বললো আসিফ। জেরিন সরল বিশ্বাসে আসিফ এর কথা মেনে নিলো , বিয়ের দিন আসিফ জানালো ওর হঠাৎ সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে রাজশাহী যেতে হচ্ছে তাই আসিফ ঢাকায় আসতে পারছেনা তবে আসিফ সব রেডি করে রেখেছে, আসিফ নিকাহনামা কুরিয়ার এ পাঠালো আর জেরিনকে বললো নিজ স্বাক্ষর দিয়ে কুরিয়ারে যাতে পাঠিয়ে দেয় , জেরিন উক্ত কাবিননামায় স্বাক্ষর করে পাঠিয়ে দেয় ।
বিবাহ সম্পন্নের পর আসিফ জেরিনকে আপত্তিকর ও অশালীন ভাবে ভিডিও কল এ আসতে বলতো, আপত্তিকর অবস্থায় কথোপকথনের সময় আসিফ স্ক্রিন রেকর্ডারের মাধ্যমে সেই ভিডিওগুলো নিজ মোবাইলে সংরক্ষণ করতো, কিছুদিন পর বের হলো আসিফ এর আসল রূপ, উক্ত ভিডিওগুলো অনলাইনে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করে দিবে যদি জেরিন তাকে টাকা না দেয় এসব বলে নানা হুমকি ও মানসিক নির্যাতন করে অনেক টাকা আত্মসাৎ করে জেরিন এর কাছ থেকে, ভিকটিম জেরিন বুঝতে পারে আসিফ এতদিন যা বলেছে সে আসলে সব মিত্থ্যা বলেছে, সে আসলে প্রতারকের পাল্লায়
পড়েছে ।
জেরিন প্রতারক আসিফের বিরুদ্ধে থানায় পর্নোগ্রাফি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনা মামলা করে, মামলার তদন্তভার দেয়া হয় সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারকে, সাইবার পুলিশ সেন্টার মামলা তদন্তভার পাওয়ার পর সাইবার ইনভেস্টিগেশন এন্ড অপারেশন্স টিম ব্যাপকভাবে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ করে আসিফ কে শনাক্ত করে এবং দিনাজপুর এর খানসামা থানাধীন আমতলী বাজার থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকালীন প্রতারক আসিফের কাছ থেকে ০৫টি নিকাহনামা , মোঃ আসিফ আহমেদ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এর বদলির ভুয়া অফিস আদেশের কপি ও প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ০২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয় ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, আসিফ আহমেদ অষ্টম শ্রেণী পাশ, গ্রিল এর ওয়ার্কশপের কর্মচারী হলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কখনো সে হয়ে যায় সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট , কখনো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সহকারী উপ সচিব , কখনো প্রশাসনিক কর্মকর্তা , কখনো ব্যাঙ্ক কর্মকর্তা, কখনো
ইঞ্জিনিয়ার। নিজেকে উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে কলেজ পড়ুয়া মেয়েদের সাথে সম্পর্ক করে ভূয়া বিয়ের নাটক ফেঁদে মেয়েদের অশ্লীল ভিডিও সংরক্ষণ করে ব্ল্যাকমেল করতো । সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার শারীরিক অবয়বের সাথে মিলে যায় এমন সরকারি কর্মকর্তার মাস্ক পরিহিত ছবি নিজের ছবি বলে দাবি করে মেয়েদের ধোঁকা দিতো, এ পর্যন্ত আসিফ প্রেমের সম্পর্ক স্থাপন করে দশ জন মেয়েকে বিয়ে করেছে এবং ব্ল্যাকমেইলিং করে বিপুল টাকা আত্মসাৎ করেছে , আসিফ এর মোবাইল ডিভাইসে ৫০ এর অধিক মেয়ের সাথে ভিডিও কলে কথোপকথন ও অসংখ্য ন্যুড ভিডিও পাওয়া যায় ।