
বিশেষ প্রতিনিধিঃ
ঢাকা জেলার অন্তর্গত কেরানীগঞ্জের গদারবাগ এলাকা হতে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া গৃহবধূ রুবিনা ইসলামকে উদ্ধার করেছে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় গত ১১-০৪-২৩ তারিখে রুবিনা ইসলামের স্বামী মোঃ ওয়াসিম ইসলাম তার স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে একটি জিডি করেন। ওই জিডির প্রেক্ষিতে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপারের নির্দেশে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মামুনুর রশিদ (পিপিএম) এর দিক নির্দেশনায় এসআই মোহাম্মদ রিয়াজ, এএসআই মোঃ আল- আমিন ও একজন মহিলা কনস্টেবল ও দৈনিক আজকের সংগ্রাম পত্রিকার একটি চৌকস টিম নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পুলিশের সহযোগিতায় সিদ্দিরগঞ্জের মিজমিজি এলাকার একটি ভাড়া বাসা হতে উদ্ধার করেন।
গৃহবধূ রুবিনা কেরানীগঞ্জের গদারবাগ এলাকায় তার স্বামী ওয়াসিমের সাথে থাকাকালীন অবস্থায় বান্ধবী ফারজানা (২৬) পিতা: লাট মিয়া এর সাথে গভীর একটা সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং সেই সম্পর্কের সুবাদে ফারজানা মাঝেমাঝে রুবিনাদের বাসায় আসা-যাওয়া করত। এমনকি তাদের বাসায় দিনের পর দিন থাকতো এবং পরিবারের সকল কিছুর বিষয়ে নিজেকে জাহির করত। তাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক এতটাই গভীর ছিল যে রুবিনার বিষয়ে কেউ কোনো মন্তব্য করলে ফারজানা তার প্রতিবাদ করত। ফারজানা রুবিনা ও তার স্বামী ওয়াসিমের মনে খুব সহজেই তার মনভোলানো কথার জালে ফাসিয়ে জায়গা করে নেয়।
তারা বুঝতেও পারে না এ সুন্দর সম্পর্কের আড়ালে ফারজানার মনে ছিল অন্য এক দুরভিসন্ধি । ধীরে ধীরে গৃহবধূ রুবিনাকে তার কথার জালে ফাসিয়ে এবং ব্ল্যাক ম্যাজিকের মাধ্যমে ফারজানার প্রতি এতটাই আসক্ত করে নেয় যে, ফারজানা রুবিনা কে যা বলতো রুবিনা কোন আপত্তি ছাড়াই সকল কিছু মেনে নিতে বাধ্য ছিল। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ফারজানা গত ০৯-০৪-২৩ তারিখ রুবিনাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে কেরানীগঞ্জের গদারবাগের বাসা হতে নিয়ে যায় এবং বিভিন্ন জায়গায় রাখে। ফারজানার উদ্দেশ্য ছিল রুবিনার স্বর্ণালংকার ও টাকা পয়সা আত্মসাৎ করা। রুবিনের স্বামী ওয়াসিমের সন্দেহ মতে রুবিনা নিখোঁজের বিষয়ে ফারজানার হাত রয়েছে বলে মনে করতেন। আর এই বিষয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরী করার জন্য দৈনিক আজকের সংগ্রাম পত্রিকার একটি টিম সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলাকায় গিয়ে ফারজানার সাথে কথা বলে। রুবিনা নিখোঁজ এর বিষয়ে কোন তথ্য আছে কিনা জানতে চাইলে ফারজানার কথা ও আচরণে কিছুটা অসংলগ্নতা পাওয়া যায়। পরবর্তীতে পুরো বিষয়টি কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এসআই অলক কুমার দে, যিনি ওই নিখোঁজ জিডির তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন তাকে অবগত করলে, তিনি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নেন এবং ফারজানার সাথে কথা বলেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার অলোক কুমার দের কাছে রুবিনা নিখোঁজের সমস্ত সত্যতা ফারজানা স্বীকার করেন। ফারজানার এই স্বীকারোক্তির প্রেক্ষিতে ১ মে নিখোঁজ গৃহবধু রুবিনাকে, বান্ধবী ফারজানার ভাড়া বাসা সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজের সময় রুবিনার সাথে থাকা স্বর্নের চেইন, কানের দুল ও হাতে থাকা স্বর্নের বালার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। তবে সমস্ত কিছুর ব্যাপারে ফারজানার জড়িত থাকার কারনে এসব স্বর্ণালংকার সে হাতিয়ে নিয়েছে বলে প্রতীয়মান হয় আর এ কারণে ফারজানার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ।