
নিজস্ব প্রতিনিধি:
শরীয়তপুরের জাজিরায় অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে একই স্কুলের অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ওই অফিস সহকারীকে এক মাসের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনার পাঁচ দিনের মাথায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর বাবা।
অভিযুক্ত ওই দপ্তরের নাম মাসুদুর রহমান (৩২) সে উপজেলার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের ৪-নং ওয়ার্ড এলাকার মৃত নুরু মিয়া ঘরামীর ছেলে এবং পূর্ব নাওডোবা আমজাদিয়া একাডেমি স্কুলের অফিস সহকারী।
ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী জানায় গত মঙ্গলবার (৩০-মে) সকালে মাসুদুর রহমান তাকে অফিস কক্ষে ডাকে। সে ওই কক্ষে গেলে মাসুদ তার বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণচেষ্টা করে। এসময় সে মাসুদকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে বাহিরে চলে আসে। বাহিরে এসে স্কুলের সহপাঠীদের কাছে অফিস কক্ষের ঘটনা খুলে বলে। এসময় স্কুলের অন্য ছাত্র-ছাত্রীরা মিলে অফিস সহকারী মাসুদকে অফিস কক্ষের ভিতরে আটকে রাখে।
ঘটনার পর স্থানীয় চেয়ারম্যান আলমগীর ঢালী ও স্কুলটির প্রধান শিক্ষক জিয়া আকন উপস্থিত হয়ে ঘটনার সঠিক বিচার করবেন বলে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন। ঘটনার দু’দিন পর ওই দপ্তরকে এক মাসের সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি ঘঠন করে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি।
তবে ওই তদন্ত কমিটি ও চেয়ারম্যানের উপর আস্থা না রেখে রোববার (৪-জুন) সকালে স্কুলটির ছাত্র-ছাত্রীরা মিলে পদ্মাসেতু দক্ষিণ থানার সামনে মানববন্ধন করে। মানববন্ধনের কিছুক্ষণ পর ওই শিক্ষার্থীর বাবা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
ঘটনা সম্পর্কে জানতে অভিযুক্ত দপ্তরকে কল করলে তার ফোন বন্ধ দেখায়, তার বাসায় গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে স্কুলটির প্রধান শিক্ষক মোঃ জিয়া আকন বলেন, আমি ৩১-মে আমার কাছে ভুক্তভোগী মেয়েটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। এবং তদন্ত সঠিক ভাবে পরিচালনা করার জন্য ওই দপ্তরকে এক মাসের সাময়িক বরখাস্ত করেছি। বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে জানানো হয়েছে।
নাওডোবা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আলমগীর ঢালী জানান, তার কাছে ভুক্তভোগী মেয়েটি এসেছিলো। মেয়েটি তাকে বিষয়টি গোপন রাখতে বলেছে। এমনকি তার বাবার কাছেও বলতে নিষেধ করেছে। বিষয়টি নিয়ে রোববার (৪-জুন) একসাথে বসার কথা ছিলো।
এই বিষয়ে পদ্মাসেতু দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোস্তাফিজুর রহমানকে মুঠোফোনে কল করলে তিনি কল রিসিভ করেননি।
মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ সিরাজউদ্দৌলা মুঠোফোনে জানান, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যাবস্থা নিবেন।