
মোঃ হেলাল উদ্দিন, স্টাফ রিপোর্টার :
কালিগন্জের চরসিন্দুর কাপাসিয়া আঞ্চলিক সড়কের ঘিঘাট এলাকায় আধা কিলোমিটার সড়ক ভেঙে নদীতে পড়েছে।
এতে নদীর তীরবর্তী সনাতন ধর্মের রবীদাস পাড়ার অন্তত ত্রিশ পরিবার বাড়ী ঘর নিয়ে হুমকিতে পড়েছে।টানা বৃষ্টিতে গত এক সপ্তাহে এ ভাঙণ দেখা গেছে।
আজ মঙ্গলবার সকাল ৯ টায় কাপাসিয়ার রানীগঞ্জ চরসিন্দুর সড়কের ঘিঘাট এলাকায় গিয়ে এ ভাঙন দেখা গেছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাজীপুর উপনবিভাগীয় প্রকৌশলী রায়হান খান বলেন,নদীর তীর ভেঙে গেছে। বাড়ী ঘর ভেংগে যাচ্ছে এমন ভিডিও পেয়েছি।আমরা ব্যবস্থা নিব।একই নদীতে এমন আরো একটি ঘটনা ঘটেছিলো। আমারা বাধ দিয়েছি।
ঘিঘাট সংঘ মিত্র পূজা মন্ডপের সহ সভাপতি পারুল রবীদাস বলেন,এ ভাংগন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পূজা মন্ডপসহ ত্রিশটি পরিবরের সব বাড়ী ঘর ভেঙে যাবে।
স্থানীয় নাসেরা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নীপা রানী দাস জানান, আমার স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। আমার মতো এমন অনেকেই স্কুলে যেতে পারেনা। সড়ক বন্ধ স্কুলে যাব কিভাবে? বিকল্প পথ না থাকায় স্কুলে যেতে পারছিনা।
তারাগন্জ নাসেরা গ্রামের মাসুদ আলম সরকার বলেন, এই জায়গাটা পুরোটা এখন ঝুকিপূর্ণ।রানীগন্জ বাজার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ পরাগ আহমেদ বলেন, নরসিংদী থেকে আমাদের মালামাল আনা নেওয়ার একমাত্র সড়ক এটি। গত শনিবার থেকে এই সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে ব্যবসা স্থবির হয়ে গেছে।
তারাগন্জ গ্রামের মফিজা আক্তার বলেন, আমার স্বামী নাই। শুনছি,নদী ভাংগন দেখা গেছে। তাই প্রতেবশিসহ তিনচার জনকে নিয়ে দেখতে এসেছি। নদী ভাংগনে আমাদের অনক অসুবিধা হবে।এছাড়া এই নদীর তীরে আমাদের ফসল।আমরা আবাদ করতে না পারলে খাব কিভাবে?
লাল মোহন রবিদাস ছেলে গনেশ রবিদাস বলেন,আমাদের বাড়ী ঘর সব নদীতে যাচ্ছে। পাড় ভেঙে প্রায় ৩০ ফুট নিচে নদীতে চলে গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার লোকজন জানায়, এই নদী থেকে আগে অবৈধভাবে প্রচুর বালি উত্তোলন করে বিক্রি হতো।বছরের পর বছর এ বালি ব্যবসা হয়েছে। তাদের অবৈধ বালি ব্যবসার কারনে আজকে পাড়া মহল্লা ভেংগে যাচ্ছে।
কাপাসিয়া উপজেলার প্রকৌশল মাইন উদ্দিন বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এলজিইডির উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।