
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁও শহরে গতকাল রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এক জোরালো সমাবেশ ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণে। শহরের কেন্দ্রীয় চৌরাস্তায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শতাধিক যোদ্ধা ও তাদের স্বজনরা অংশ নেন। সমাবেশে তারা ‘জুলাই যোদ্ধা সনদ’ দ্রুত বাস্তবায়ন এবং যুদ্ধাহত যোদ্ধাদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে যারা সংগঠিত হয়ে গনতন্ত্রের মুক্তির যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন, তাদের অবদানকে আজও যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। এক বছর ধরে তারা ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতির অপেক্ষায় রয়েছেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, বাছাই কমিটির দুর্বলতা ও গাফিলতির কারণে প্রকৃত যোদ্ধারা এখনও সনদ পাননি, বরং অনেক ভুয়া নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তালিকায়।
একজন যুদ্ধাহত যোদ্ধা লামিম জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি চোখের সমস্যায় ভুগলেও তিনি সরকারি সহায়তা পাননি। উন্নত চিকিৎসার অভাবে তার চোখটি প্রায় সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “বারবার আবেদন করেছি, কেউ আমার কথা শোনেনি।”
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ঠাকুরগাঁওয়ের জুলাই যোদ্ধা তোফাজ্জল, আনাস, আলামিন এবং প্রতিনিধি রায়হান অপু। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা অবহেলার শিকার। স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজি রাখা যোদ্ধাদের আজকে এমন অবস্থায় দেখতে হচ্ছে—এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক।
বক্তারা আরও জানান, তারা বারবার সংশ্লিষ্ট দফতরে গিয়েও কোনো কার্যকর পদক্ষেপের আশ্বাস পাননি। এ অবস্থায় তাদের একমাত্র পথ হলো রাজপথে আন্দোলন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা। তারা বর্তমান জেলা প্রশাসক ইসরাত ফারজানার বিরুদ্ধে ও নানান অভিযোগের প্রশ্ন তুলেন।
উল্লেখ্য, ‘জুলাই যোদ্ধা’দের স্বীকৃতি ও সুচিকিৎসার দাবিতে এর আগেও বিভিন্ন সময় আন্দোলন হয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে আন্দোলনকারীদের দাবি।